জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ২০২৫-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ। এই সংশোধনীতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা দেশের নির্বাচন ব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে। বিশেষ করে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) বাতিল এবং ‘না ভোট’ পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে আরও গণতান্ত্রিক ও স্বচ্ছ করার লক্ষ্য নিয়ে এসেছে। […]
জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ২০২৫-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ। এই সংশোধনীতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা দেশের নির্বাচন ব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে। বিশেষ করে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) বাতিল এবং ‘না ভোট’ পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে আরও গণতান্ত্রিক ও স্বচ্ছ করার লক্ষ্য নিয়ে এসেছে।
ইভিএম বাতিল: পুরনো পদ্ধতিতে ফিরে যাওয়ার কারণ ও প্রভাব
২০১৪ সালের নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের ফলে ব্যাপক বিতর্ক ও অভিযোগের সৃষ্টি হয়েছিল। সেই সময় থেকে ইভিএম নিয়ে জনগণের মধ্যে সন্দেহ ও অবিশ্বাস বেড়েছে। তাই নতুন সংশোধনীতে ইভিএম ব্যবহারের বিধান বাতিল করা হয়েছে। এটি ভোটারদের মধ্যে আস্থা ফিরে আনার চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইভিএম বাতিলের ফলে ভোটের পদ্ধতি আবারও কাগজভিত্তিক পদ্ধতিতে ফিরে আসবে, যা ভোটের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে।
‘না ভোট’ পুনর্বহাল: নির্বাচনে প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার সুযোগ
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী হলো ‘না ভোট’ পুনর্বহাল। এর ফলে কোনো নির্বাচনী আসনে যদি মাত্র একজন প্রার্থী থাকে, তখন ভোটাররা তাকে ভোট না দেওয়ার অধিকার পাবেন। এর মাধ্যমে ভোটাররা তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করতে পারবেন এবং একক প্রার্থীর বিরুদ্ধে গণভোটের সুযোগ সৃষ্টি হবে। যদি ‘না ভোট’ সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়, তাহলে ওই আসনে পুনরায় নির্বাচন ঘোষণা করা হবে। এটি নির্বাচনী প্রতিযোগিতাকে আরও উৎসাহিত করবে এবং সাজানো নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি রোধ করবে।
প্রার্থীদের সম্পত্তি ও আয়ের স্বচ্ছতা বৃদ্ধিতে নতুন নিয়ম
নতুন সংশোধনীতেও প্রার্থীদের দেশি-বিদেশি আয় ও সম্পত্তির বিস্তারিত বিবরণ হলফনামায় দিতে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই তথ্য নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে উন্মুক্তভাবে প্রকাশ করা হবে, যা ভোটারদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে প্রার্থীদের আর্থিক অবস্থা সম্পর্কে জনগণ সহজেই জানতে পারবে এবং সম্ভাব্য দুর্নীতির ঝুঁকি কমবে।
পলাতক আসামিদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ
আইনের নতুন ধারায় পলাতক আসামিদের নির্বাচনে অংশ নেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর ফলে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে দূরে রাখা সম্ভব হবে, যা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে সশক্ত করবে।
অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী ও তাদের প্রভাব
এই সংশোধনীগুলো বাংলাদেশের নির্বাচনী ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী এবং গণতান্ত্রিক করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। ইভিএম বাতিল ও ‘না ভোট’ পুনর্বহাল ভোটারের অধিকার ও ভোটের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে। প্রার্থীদের আর্থিক স্বচ্ছতা ও পলাতক আসামিদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিষিদ্ধকরণ দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে উন্নত করবে। তবে এই পরিবর্তনগুলোর সফল বাস্তবায়ন নির্ভর করবে নির্বাচন কমিশন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যকর প্রণালী ও মনিটরিংয়ের ওপর।
ভোটার হিসেবে এই পরিবর্তনগুলো আপনাদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এগুলো ভোটারদের অধিকারের পরিধি বাড়ায়, ভোটের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে এবং নির্বাচনী প্রতিযোগিতাকে সমান সুযোগের ভিত্তিতে পরিচালিত করে।