নিউইয়র্ক সিটির একটি সাবওয়ে ট্রেনে ইরানের জাতীয় পতাকার আদলে সাজানো নকশা ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ভাইরাল হওয়া কিছু পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, এ ধরনের সাজসজ্জা নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির সিদ্ধান্তের ফল। তবে বিভিন্ন তথ্য যাচাই করে দেখা গেছে, এমন দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। মূলত ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে […]
ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্ক সিটির একটি সাবওয়ে ট্রেনে ইরানের জাতীয় পতাকার আদলে সাজানো নকশা ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ভাইরাল হওয়া কিছু পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, এ ধরনের সাজসজ্জা নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির সিদ্ধান্তের ফল। তবে বিভিন্ন তথ্য যাচাই করে দেখা গেছে, এমন দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
মূলত ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সিতে নানা ধরনের প্রচারণামূলক কার্যক্রম চলছে। সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবেই অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন দেশের পতাকার অনুপ্রেরণায় একাধিক সাবওয়ে ট্রেন সাজানো হয়েছে। ইরানের পতাকার আদলে যে ট্রেনটি দেখা গেছে, সেটিও সেই একই প্রচারণার অংশ। ফলে ট্রেনটিকে কোনো রাজনৈতিক অবস্থান, রাষ্ট্রীয় সমর্থন বা আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
তবু ট্রেনটির ছবি সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। অনেক ব্যবহারকারী সরাসরি মেয়র মামদানিকে দায়ী করে মন্তব্য করতে থাকেন। কিন্তু নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসন কিংবা মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্টেশন অথরিটি (এমটিএ) এমন কোনো তথ্য দেয়নি, যাতে বলা যায় মেয়র ব্যক্তিগতভাবে এই নকশার নির্দেশ দিয়েছেন বা এটি তার একক সিদ্ধান্তে বাস্তবায়িত হয়েছে।
নিউইয়র্ক ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক শহর হিসেবে নানা ধরনের প্রস্তুতি ও প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে শহরজুড়ে পরিবহনব্যবস্থা, পর্যটন এবং জনসচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন ভিজ্যুয়াল ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবেই বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া দেশগুলোর সংস্কৃতি ও পরিচিতি তুলে ধরতে বিভিন্ন দেশের পতাকাভিত্তিক নকশা ব্যবহার করা হয়েছে।
তবে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্ককে ঘিরে সংবেদনশীলতার কারণে ইরানের পতাকার আদলে সাজানো ট্রেনটি নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অনেকে বিষয়টিকে ভুলভাবে রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে ব্যাখ্যা করলেও পাওয়া তথ্য বলছে, এটি আসলে বিশ্বকাপকেন্দ্রিক একটি প্রচারণামূলক উদ্যোগ।
সামাজিক মাধ্যমে বিতর্কের পরও এখন পর্যন্ত এমন কোনো প্রমাণ মেলেনি, যা থেকে বলা যায় এই ট্রেন সাজানোর সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বা মেয়র মামদানির ব্যক্তিগত ভূমিকা ছিল। বরং সব তথ্যই ইঙ্গিত দিচ্ছে, এটি একটি বহুজাতিক ক্রীড়া ইভেন্টকে ঘিরে নেওয়া পরিচিতিমূলক প্রচারণার অংশ।