যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে দীর্ঘদিন গৃহহীন (হোমলেস) জীবন কাটিয়ে স্থায়ী আবাসন ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা ১৩০ জনেরও বেশি মানুষকে বিশেষ সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। পুনর্বাসনমূলক প্রতিষ্ঠান দ্য ডো ফান্ড তাদের ‘রেডি, উইলিং অ্যান্ড এবল’ কর্মসূচির আওতায় এই গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ১৯৮০-এর দশকে জর্জ টি. ম্যাকডোনাল্ড প্রতিষ্ঠা করেন দ্য ডো ফান্ড। গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল টার্মিনালে টানা […]
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে দীর্ঘদিন গৃহহীন (হোমলেস) জীবন কাটিয়ে স্থায়ী আবাসন ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা ১৩০ জনেরও বেশি মানুষকে বিশেষ সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। পুনর্বাসনমূলক প্রতিষ্ঠান দ্য ডো ফান্ড তাদের ‘রেডি, উইলিং অ্যান্ড এবল’ কর্মসূচির আওতায় এই গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
১৯৮০-এর দশকে জর্জ টি. ম্যাকডোনাল্ড প্রতিষ্ঠা করেন দ্য ডো ফান্ড। গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল টার্মিনালে টানা ৭০০ দিন ক্ষুধার্ত মানুষের মধ্যে খাবার বিতরণের মাধ্যমে এর কার্যক্রম শুরু হয়। পরে সংস্থাটি শুধু খাদ্য সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে গৃহহীন মানুষের জন্য আবাসন, কর্মসংস্থান এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করে।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া গ্র্যাজুয়েট ইমানি আবদুস-সাবির জানান, একসময় তিনি মাদকাসক্তি ও কারাভোগের মতো কঠিন বাস্তবতার মধ্য দিয়ে গেছেন। তবে দ্য ডো ফান্ডের সহায়তা পাওয়ার পর তার জীবনে নতুন মোড় আসে। তিনি বলেন, আশ্রয়কেন্দ্রে থাকার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়ার মতো কার্যকর উদ্যোগ অন্য কোথাও তিনি দেখেননি।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, তাদের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া অনেকেই সাবেক বন্দী। কারাভোগের পর চাকরি ও বাসস্থানের সুযোগ না পাওয়ায় তাদের অনেকেই গৃহহীন হয়ে পড়েন। প্রিজন পলিসি ইনিশিয়েটিভ-এর তথ্য বলছে, সাধারণ মানুষের তুলনায় সাবেক বন্দীদের গৃহহীন হওয়ার ঝুঁকি প্রায় ১০ গুণ বেশি।
আরেক গ্র্যাজুয়েট রিকি উইলিস জানান, একসময় তিনি আশ্রয়কেন্দ্রে বসবাস করতেন। বর্তমানে তিনি ব্রুকলিনে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন এবং পেশাদার চালক হিসেবে কাজ করছেন। অতীতের সংগ্রাম পেরিয়ে নতুন জীবন শুরু করতে পারায় তিনি দ্য ডো ফান্ডের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
দ্য ডো ফান্ডের কর্মসূচির আওতায় অংশগ্রহণকারীদের চাকরির জন্য প্রস্তুত করা, সাক্ষাৎকারের প্রশিক্ষণ, স্থায়ী আবাসন খুঁজে দেওয়া এবং সমাজে পুনর্বাসনের বিভিন্ন ধরনের সহায়তা প্রদান করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের পুনর্বাসন কর্মসূচি শুধু গৃহহীনতা কমাতেই নয়, বরং সাবেক বন্দী ও সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে আত্মনির্ভরশীল করে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাদের মতে, স্থায়ী আবাসন, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক সহায়তা একত্রে নিশ্চিত করা গেলে গৃহহীন মানুষের নতুন জীবন শুরু করা অনেক সহজ হয়ে ওঠে।