সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

জাতীয়
২:৪৭ পিএম, ২১ অক্টোবর ২০২৫

কক্সবাজারের খুটাখালীতে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে লবণ চাষিদের প্রতিবাদ মানববন্ধন ও থানায় অভিযোগ

কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী এলাকার লবণ চাষিরা দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজির কষ্টে অতিষ্ঠ হয়ে বিক্ষোভ ও মানববন্ধনের মাধ্যমে তাদের দাবিগুলো তুলে ধরেছেন। মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে বড় নাইপেরঘোনা লবণ মাঠে অনুষ্ঠিত এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সরাসরি প্রতিবাদ জানানো হয়। চাঁদাবাজির প্রকৃত চিত্র ও অভিযোগ স্থানীয় লবণ চাষি মুজিবুর রহমান (৩৭) উল্লেখ করেন, খুটাখালীর নাইপেরঘোনা […]

কক্সবাজারের খুটাখালীতে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে লবণ চাষিদের প্রতিবাদ মানববন্ধন ও থানায় অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী এলাকার লবণ চাষিরা দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজির কষ্টে অতিষ্ঠ হয়ে বিক্ষোভ ও মানববন্ধনের মাধ্যমে তাদের দাবিগুলো তুলে ধরেছেন। মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে বড় নাইপেরঘোনা লবণ মাঠে অনুষ্ঠিত এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সরাসরি প্রতিবাদ জানানো হয়।

চাঁদাবাজির প্রকৃত চিত্র ও অভিযোগ

স্থানীয় লবণ চাষি মুজিবুর রহমান (৩৭) উল্লেখ করেন, খুটাখালীর নাইপেরঘোনা লবণ মাঠে প্রতি মণ লবণ থেকে ২ টাকা করে চাঁদাবাজি নেওয়া হচ্ছে। এই চাঁদাবাজির মূল কর্তা হিসেবে স্থানীয় কামাল মেম্বারের ছেলে রহিম উদ্দিন এবং তার কয়েকজন সহযোগীর নাম উঠে এসেছে। ১৭ অক্টোবর তারা লবণ চাষিদের ওপর চাঁদাবাজির চেষ্টা করে এবং প্রতিবাদ জানালে প্রাণে মারার হুমকি দেয়।

এই ঘটনায় মুজিবুর রহমান বাদী হয়ে চকরিয়া থানায় রহিম উদ্দিন ও তার সহযোগী ৬ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ইতোমধ্যে প্রায় ৫ লাখ টাকা চাঁদাবাজির মাধ্যমে আদায় করা হয়েছে যা লবণ চাষিদের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ।

মানববন্ধনে দাবি ও সঙ্কটের প্রেক্ষাপট

মানববন্ধনে উপস্থিত বক্তারা জানিয়েছেন, যদি এই চাঁদাবাজি অবিলম্বে বন্ধ না হয়, তাহলে চলতি মৌসুমে নাইপেরঘোনার ৬৬৪ কানি লবণ মাঠ থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকা চাঁদাবাজির টাকা আদায় হতে পারে। এতে শুধু লবণ চাষিরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন না, বরং সামাজিক অস্থিরতা ও সম্ভাব্য রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কাও বাড়বে।

বক্তারা আরও বলেন, চাঁদাবাজি বন্ধ করতে প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন, নয়তো এই অবস্থা এলাকায় নিরাপত্তাহীনতা ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

স্থানীয় নেতাদের বক্তব্য ও সমর্থন

খুটাখালী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম, বিএনপি নেতা রমজান আলী, যুবদল নেতা ফয়সাল সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করে লবণ চাষিদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন এবং প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

লবণ চাষ ও চাঁদাবাজির প্রভাব: বিশ্লেষণ

খুটাখালী অঞ্চলের অর্থনীতি অনেকাংশে লবণ চাষের উপর নির্ভরশীল। চাঁদাবাজির মতো অবৈধ কর্মকান্ড লবণ চাষিদের আয় কমিয়ে দেয়ার পাশাপাশি তাদের জীবনের নিরাপত্তাকেও হুমকির মুখে ফেলে। এই পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদে এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়ন ব্যাহত করবে এবং সামাজিক অবস্থা উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠবে।

এই বিক্ষোভ ও মানববন্ধন থেকে স্পষ্ট যে, স্থানীয় ও জাতীয় প্রশাসনের ত্বরিত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন, যাতে চাঁদাবাজির মত অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ হয় এবং লবণ চাষিরা নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে তাদের কাজ চালিয়ে যেতে পারে। পাশাপাশি, এই ঘটনায় সমাজের সচেতনতা বৃদ্ধি পেলে ভবিষ্যতে এমন অবস্থা এড়ানো সম্ভব হবে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ