ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, হামলায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৫ জন। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছেন বলে জানা গেছে। শনিবার (৬ জুন) আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিয়ের অনুষ্ঠান উপলক্ষে স্থাপন করা একটি বড় তাঁবুকে কেন্দ্র […]
ছবি: সংগৃহীত
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, হামলায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৫ জন। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছেন বলে জানা গেছে।
শনিবার (৬ জুন) আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিয়ের অনুষ্ঠান উপলক্ষে স্থাপন করা একটি বড় তাঁবুকে কেন্দ্র করে হামলাটি সংঘটিত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠান চলাকালে তাঁবুর ভেতর বা আশপাশে একাধিক বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের পর চারদিকে ধোঁয়া ও ধ্বংসস্তূপ ছড়িয়ে পড়ে এবং মুহূর্তের মধ্যে আনন্দঘন পরিবেশ রক্তাক্ত ঘটনায় পরিণত হয়।
আল-জাজিরার গাজা প্রতিনিধি হানি মাহমুদ জানান, বিস্ফোরণের ফলে ছড়িয়ে পড়া ধাতব টুকরো ও ধ্বংসাবশেষ আশপাশের এলাকাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। পাশের একটি স্কুলেও বিস্ফোরণের প্রভাব পড়ে। ওই স্কুলে সংঘাতের কারণে বাস্তুচ্যুত বহু ফিলিস্তিনি পরিবার আশ্রয় নিয়েছিল।
তিনি বলেন, “হামলার তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে বিস্ফোরণের অভিঘাত আশপাশের বিভিন্ন স্থাপনায়ও অনুভূত হয়েছে। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।”
আল শিফা হাসপাতালের একটি সূত্র জানিয়েছে, আহতদের অনেকের অবস্থা গুরুতর। ফলে মৃতের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত এক আত্মীয় বলেন, অনুষ্ঠানস্থলের তাঁবুটি অতিথিতে পূর্ণ ছিল। কয়েক মিনিটের মধ্যেই উৎসবের পরিবেশ শোক ও আতঙ্কে রূপ নেয়।
তিনি বলেন, “আমরা আনন্দ উদযাপন করছিলাম। হঠাৎ বিস্ফোরণের শব্দ শুনি। এরপর চারদিকে চিৎকার আর রক্তাক্ত মানুষের দৃশ্য। গাজায় মানুষ সবসময় এই ভয় নিয়েই বেঁচে থাকে যে যেকোনো মুহূর্তে এমন হামলা হতে পারে।”
হামলার সময় ও সুনির্দিষ্ট স্থান সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এ ঘটনায় ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
গাজায় চলমান সংঘাতের মধ্যে বেসামরিক স্থাপনা, আশ্রয়কেন্দ্র এবং জনসমাগমস্থলে হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বারবার বেসামরিক জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে আসছে।
সূত্র: আল-জাজিরা