Advertise with us
সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

কমিউনিটি
৩:৩৮ এএম, ২৮ অক্টোবর ২০২৫

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের আধুনিকীকরণ জরুরি গুতেরেসের গুরুত্বপূর্ন আহ্বান

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ বর্তমানে বিশ্বব্যাপী বাস্তবতার সঠিক প্রতিফলন করছে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। তিনি বলেছেন, নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য কাঠামো সংস্কারের মাধ্যমে এটি আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও কার্যকর করা প্রয়োজন, যাতে বর্তমান বিশ্বব্যাপী রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনগুলো প্রতিফলিত হয়। মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে ৪৭তম আসিয়ান শীর্ষ সম্মেলনের সময় এক সংবাদ সম্মেলনে গুতেরেস বলেন, নিরাপত্তা পরিষদে […]

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের আধুনিকীকরণ জরুরি গুতেরেসের গুরুত্বপূর্ন আহ্বান
নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ বর্তমানে বিশ্বব্যাপী বাস্তবতার সঠিক প্রতিফলন করছে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। তিনি বলেছেন, নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য কাঠামো সংস্কারের মাধ্যমে এটি আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও কার্যকর করা প্রয়োজন, যাতে বর্তমান বিশ্বব্যাপী রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনগুলো প্রতিফলিত হয়।

মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে ৪৭তম আসিয়ান শীর্ষ সম্মেলনের সময় এক সংবাদ সম্মেলনে গুতেরেস বলেন, নিরাপত্তা পরিষদে আফ্রিকা ও এশিয়ার প্রতিনিধিত্ব যথেষ্ট নয়। বর্তমানে পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের মধ্যে ইউরোপের ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া এবং এশিয়ার চীন থাকলেও লাতিন আমেরিকা ও আফ্রিকার কোনো স্থায়ী সদস্য নেই। এই ভারসাম্যহীনতা পরিষদের কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করছে এবং তা বিশ্বব্যাপী শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

গুতেরেস আরও বলেন, নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের ভেটো ক্ষমতা পরিষদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের প্রস্তাবিত ভেটো সীমাবদ্ধকরণের ধারা গুরুত্বসহকারে বিবেচনার আহ্বান জানান। এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে নিরাপত্তা পরিষদের কার্যক্ষমতা বাড়বে এবং বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।

জাতিসংঘের কাঠামোগত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে গুতেরেসের এই বক্তব্য মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাতুক সেরি মোহামাদ হাসানের সঙ্গে মিল রয়েছে। তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভেটো ক্ষমতা সীমিত বা বিলোপের পক্ষে মতামত প্রকাশ করে বলেন, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ক্ষমতা সাধারণ পরিষদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া উচিত, যা বৈশ্বিক বিবেক ও কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করতে পারবে।

অর্থনৈতিক সংকটের প্রেক্ষাপটে গুতেরেস জানান, জাতিসংঘ কর্মী সংখ্যা কমানোর প্রস্তাবের পেছনে প্রধানত যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে ঘাটতি রয়েছে। তবে এই কর্মীসংখ্যা হ্রাসের ফলে উন্নয়নশীল দেশগুলোর সহায়তা ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, বরং তা আরও বাড়ানো হবে।

বর্তমান বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থাকে গুতেরেস ‘পুরোনো ও বৈষম্যমূলক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রয়োজন এবং দাবিকে যথাযথভাবে প্রতিফলিত করতে ব্যর্থ। তিনি বলেন, আসিয়ান অর্থনীতির আজকের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তাদের অংশীদারিত্ব বাড়ানো উচিত।

গুতেরেসের মতে, বৈশ্বিক শাসন কাঠামোকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, প্রতিনিধিত্বমূলক এবং ন্যায়সঙ্গত করতে হবে। এতে উন্নয়নশীল দেশ, বিশেষ করে আসিয়ান সদস্য রাষ্ট্রগুলোর অংশগ্রহণ ও ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। তিনি বহুপাক্ষিক উন্নয়ন ব্যাংকগুলোর ঋণদানের ক্ষমতা তিনগুণ বাড়ানোর প্রস্তাব দেন, যাতে ঋণ সংকটে থাকা দেশগুলো দ্রুত আর্থিক সহায়তা পায় এবং ঝুঁকি কমে।

পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় গুতেরেস জি২০ দেশের প্রতি বিশেষ দায়িত্ব পালন করার আহ্বান জানান। বিশ্বের মোট গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের ৮০ শতাংশ জি২০ দেশের অংশ, তাই তাদের উচিত জলবায়ু কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেওয়া। তিনি উন্নত দেশগুলোকে জলবায়ু অভিযোজন তহবিল দ্বিগুণ করে অন্তত ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করার এবং ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড’ তহবিলে বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ করার প্রস্তাব দেন।

গুতেরেস আশা প্রকাশ করেন, ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত জলবায়ু সম্মেলনে বিশ্ব নেতারা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা সীমার মধ্যে থেকে নির্গমন কমানোর জন্য বাস্তবসম্মত পরিকল্পনায় ঐকমত্যে পৌঁছবেন। এছাড়াও, ২০৩৫ সালের মধ্যে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বছরে ১.৩ ট্রিলিয়ন ডলার জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হবে।

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের আধুনিকীকরণ একটি সময়োপযোগী দাবি, বিশেষ করে আজকের বহুপাক্ষিক বিশ্বে যেখানে উন্নয়নশীল দেশগুলোর ভূমিকাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। নিরাপত্তা পরিষদের অভ্যন্তরীণ ভারসাম্যহীনতা ও ভেটো ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। গুতেরেসের আহ্বান অনুযায়ী, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায়সঙ্গত কাঠামো গড়ে তোলা গেলে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা অনেক সহজ হবে।

অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে উন্নয়নশীল দেশগুলোর অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থায় বৈষম্য কমানোর মাধ্যমে বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ও সাম্য প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় গুতেরেসের নির্দেশিত পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে পরিবেশ সংরক্ষণে বড় অগ্রগতি হবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ পৃথিবী নিশ্চিত করা যাবে।

এই পরিবর্তনগুলো বিশ্ববাসীর জন্য আশার আলো, যা জাতিসংঘের কাঠামো ও কার্যক্রমকে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে উন্নত করবে এবং বৈশ্বিক শাসন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


Advertise with us
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ