সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে যৌন সহিংসতার অভিযোগে ইসরাইলকে জাতিসংঘের কালো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার পর জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছে ইসরাইল। দেশটির পক্ষ থেকে এ সিদ্ধান্তকে জাতিসংঘের রাজনৈতিক পক্ষপাতের প্রকাশ বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরাইলি রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন বলেন, “আমরা এই […]
ছবি: সংগৃহীত
সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে যৌন সহিংসতার অভিযোগে ইসরাইলকে জাতিসংঘের কালো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার পর জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছে ইসরাইল। দেশটির পক্ষ থেকে এ সিদ্ধান্তকে জাতিসংঘের রাজনৈতিক পক্ষপাতের প্রকাশ বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরাইলি রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন বলেন, “আমরা এই মহাসচিবের সঙ্গে আর কাজ করব না।” তিনি জাতিসংঘের আসন্ন প্রতিবেদনের সমালোচনা করে বলেন, ইসরাইলকে যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে যৌন সহিংসতা ব্যবহারের অভিযোগে অভিযুক্ত করা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।
জাতিসংঘের প্রতিবেদনে ইসরাইলকে এমন দেশগুলোর তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে, যাদের সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনী বন্দি বা দুর্বল জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ধর্ষণসহ যৌন সহিংসতার ঘটনা বারবার ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস আগেই এমন পদক্ষেপের বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন।
ইসরাইলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এ বিষয়ে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে তারা জাতিসংঘকে রাজনৈতিক ও দুর্নীতিগ্রস্ত একটি সংস্থা হিসেবে আখ্যা দেয়। বিবৃতিতে বলা হয়, জাতিসংঘ তার প্রতিষ্ঠাতা নীতিমালা পরিত্যাগ করেছে এবং ধারাবাহিকভাবে ইসরাইলকে প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে। এ কারণেই মহাসচিবের কার্যালয়ের সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ইসরাইলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, গুতেরেসের মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা জাতিসংঘের মহাসচিব কার্যালয়ের সঙ্গে আর কোনো কার্যকর যোগাযোগ রাখবে না। গুতেরেসের বর্তমান মেয়াদ ৩১ ডিসেম্বর শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
জাতিসংঘের এই পদক্ষেপকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, মানবাধিকার ও যুদ্ধাপরাধবিষয়ক অভিযোগকে কেন্দ্র করে ইসরাইল-জাতিসংঘ সম্পর্ক আরও টানাপোড়েনের দিকে যাচ্ছে।