ঢাকার মেট্রো রেল ও শহরের সকল ফ্লাইওভারের বিয়ারিং প্যাডের মান ও রক্ষণাবেক্ষণ পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করে তাৎক্ষণিক তদন্তের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে জনস্বার্থ রিট দায়ের করা হয়েছে। এই রিটের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষদের নিরাপত্তা ও মান নিয়ন্ত্রণে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে। সোমবার (২৭ অক্টোবর) সকালে সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ […]
ঢাকার মেট্রো রেল ও শহরের সকল ফ্লাইওভারের বিয়ারিং প্যাডের মান ও রক্ষণাবেক্ষণ পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করে তাৎক্ষণিক তদন্তের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে জনস্বার্থ রিট দায়ের করা হয়েছে। এই রিটের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষদের নিরাপত্তা ও মান নিয়ন্ত্রণে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
সোমবার (২৭ অক্টোবর) সকালে সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ আল মামুন হাইকোর্টে এই রিট দায়ের করেন। তিনি জানান, গত রোববার রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় মেট্রোরেলের একটি পিলারের ওপর থেকে বিয়ারিং প্যাড পড়ে এক পথচারী আবুল কালাম নিহত হয়েছেন। এছাড়া, গত বছর মেট্রোরেল থেকে বিয়ারিং প্যাড খুলে পড়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছিল, যা ঢাকার জনসাধারণের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
বিয়ারিং প্যাড হলো মেট্রোরেল ও ফ্লাইওভার পিলারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা নির্মাণের স্থায়িত্ব এবং স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে। ঢাকা শহরের প্রতিটি ফ্লাইওভারের পিলারে অসংখ্য বিয়ারিং প্যাড বসানো রয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞ এবং সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করেছেন, এই প্যাডগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ যথাযথভাবে হচ্ছে না এবং নির্মাণে ত্রুটি থাকতে পারে, যা জনসাধারণের নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে।
এই পরিস্থিতিতে, আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, দ্রুত এই বিষয়গুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিশেষজ্ঞদের নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করা জরুরি। রিটে সড়ক ও জনপথ বিভাগ, মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ এবং বিয়ারিং প্যাড সরবরাহকারী ইতালি-থাই কোম্পানিকে বিবাদী করা হয়েছে।
এই রিটের শুনানি হাইকোর্টের এনেক্স ১২ নম্বর কোর্টে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে। জনস্বার্থে দায়েরকৃত এই রিটের মাধ্যমে ঢাকার মেট্রো ও ফ্লাইওভারগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও দৃঢ় ও কার্যকর করার প্রত্যাশা রয়েছে।
ঢাকার যানজট ও জনবহুল শহর হওয়ায় মেট্রো রেল ও ফ্লাইওভারগুলো শহরের প্রাণশক্তি হিসেবে কাজ করে। এই অবকাঠামোগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জনগণের জীবন ও সম্পদ রক্ষার জন্য অপরিহার্য। বিয়ারিং প্যাডের মান ও রক্ষণাবেক্ষণে কোনও অবহেলা ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে, যা জনজীবনে ভয়াবহ প্রভাব ফেলবে। তাই এই রিটের মাধ্যমে তৎপরতা নেওয়া হলে শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং জনসাধারণের মধ্যে নিরাপত্তার বিশ্বাস বৃদ্ধি পাবে।