সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

জাতীয়
৪:৫৩ পিএম, ১৯ অক্টোবর ২০২৫

ঢাবি এবং জবিতে ছাত্রদল নেতার হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ বিচার দাবি ও নিরাপত্তা সংকটে শিক্ষাঙ্গন

সম্প্রতি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ছাত্রদল আহ্বায়ক সদস্য মো. জোবায়েদ হোসেনকে নির্মমভাবে হত্যা করার ঘটনা দেশের শিক্ষাঙ্গনে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। এই নৃশংস হত্যার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্রদল এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আলাদা আলাদা স্থানে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। শিক্ষার্থীরা দ্রুত বিচারের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তির দাবি জানাচ্ছে, পাশাপাশি দেশের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের জন্য সরকারের […]

ঢাবি এবং জবিতে ছাত্রদল নেতার হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ বিচার দাবি ও নিরাপত্তা সংকটে শিক্ষাঙ্গন
নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

সম্প্রতি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ছাত্রদল আহ্বায়ক সদস্য মো. জোবায়েদ হোসেনকে নির্মমভাবে হত্যা করার ঘটনা দেশের শিক্ষাঙ্গনে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। এই নৃশংস হত্যার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্রদল এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আলাদা আলাদা স্থানে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। শিক্ষার্থীরা দ্রুত বিচারের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তির দাবি জানাচ্ছে, পাশাপাশি দেশের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বানও জানিয়েছে।

ঢাবিতে বিক্ষোভ মিছিল: জোবায়েদের হত্যার নিন্দা ও দ্রুত বিচারের দাবি

রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি ভিসি চত্বর ও হলপাড়া ঘুরে আবার টিএসসির ডাস চত্বরে এসে শেষ হয়, যেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস বলেন, “জোবায়েদ ছিলেন দেশের গণ-অভ্যুত্থানের সাহসী একজন সহযোদ্ধা। তার নির্মম হত্যাকাণ্ড শুধু তার পরিবার ও বন্ধুদের জন্য নয়, পুরো শিক্ষাঙ্গনের জন্য এক বার্তা।”

তিনি আরও বলেন, “আগস্টের পরবর্তী সময়ের সরকার শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। দেশের শীর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা আজও হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন। আমরা জোর দাবি জানাচ্ছি—জোবায়েদ হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে।”

গণেশ চন্দ্র রায় সতর্ক করে বলেন, “যদি বিচার না হয়, তাহলে আমরা শুধু বিক্ষোভ মিছিলেই থেমে থাকব না, বরং আরও কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করব।”

জবিতে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ: হত্যাকাণ্ডের নিন্দা ও প্রশাসনের উদাসীনতার প্রতিবাদ

একই রোজ রাতে পুরান ঢাকার আরমানিটোলায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জোবায়েদ হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করেন। জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান বলেন, “জোবায়েদ আমাদের সহযোদ্ধা ছিলেন, তাকে ছুরি দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। প্রশাসনের উদাসীনতা আমাদের মন ভেঙে দিয়েছে।”

উল্লেখযোগ্য, জোবায়েদ হত্যার প্রায় ছয় ঘণ্টা পার হলেও প্রশাসন থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করে জবি ছাত্রদলের সদস্যসচিব শামসুল আরেফিন দাবি করেন, “হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত আমরা সড়ক ছাড়ব না।”

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও তদন্ত: পিবিআই তদন্তে জোর দেওয়া

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক প্রথম আলোকে জানান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে কাজ করছে। ইতোমধ্যে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত শুরু করেছে। পিবিআই রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জোবায়েদ হোসেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের পরিসংখ্যান বিভাগের ছাত্র ছিলেন। রোববার সন্ধ্যার পর রাজধানীর আরমানিটোলার একটি ভবনের সিঁড়ি থেকে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি ওই ভবনের একটি বাসায় টিউশনি পড়াতেন এবং ফরাশগঞ্জের একটি মেসে থাকতেন।

এই হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তার সংকট ও রাজনৈতিক সহিংসতার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। এর আগে সাম্য ও পারভেজের হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা আশঙ্কা করছে জোবায়েদের হত্যাকাণ্ডও বিচারে অনুপস্থিত থেকে যেতে পারে।

শিক্ষাঙ্গনের নিরাপত্তা ও শিক্ষার্থীদের প্রতি গুরুত্ব

শিক্ষার্থীরা দেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণের মূল শক্তি। তাদের নিরাপত্তা ও স্বাধীন মতপ্রকাশের অধিকার নিশ্চিত করা সমাজ ও দেশের জন্য অত্যন্ত জরুরি। এই ধরনের নৃশংস হত্যাকাণ্ড শিক্ষাঙ্গনে ভীতি ও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করে, যা শিক্ষার মান ও দেশপ্রেমের ক্ষতি সাধন করে। তাই শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা জোরদার করতে এবং হত্যাকাণ্ডের দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচারের ব্যবস্থা করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল পদক্ষেপ অপরিহার্য।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল নেতা মো. জোবায়েদ হোসেনের হত্যাকাণ্ড দেশের শিক্ষাঙ্গনে একটি গভীর দুঃখ ও উদ্বেগের সঞ্চার করেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ থেকে স্পষ্ট যে, তারা নিপীড়ন ও সহিংসতার বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে। দ্রুত বিচার ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে শিক্ষাঙ্গনের শান্তি প্রতিষ্ঠা করা এখন সময়ের প্রধান দাবি।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ