নিউইয়র্কের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠিত ডেমোক্রেটিক নেতৃত্বের প্রভাব ও সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছেন মেয়র Zohran Mamdani। সাম্প্রতিক প্রাইমারি নির্বাচনের ফলাফল তাকে শুধু জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতা নয়, বরং দলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তারকারী ব্যক্তিত্ব বা ‘কিংমেকার’ হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করেছে। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত প্রাইমারিতে তার সমর্থিত তিনজন প্রগতিশীল প্রার্থী জয় লাভ করেন। তাদের মধ্যে […]
ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠিত ডেমোক্রেটিক নেতৃত্বের প্রভাব ও সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছেন মেয়র Zohran Mamdani। সাম্প্রতিক প্রাইমারি নির্বাচনের ফলাফল তাকে শুধু জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতা নয়, বরং দলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তারকারী ব্যক্তিত্ব বা ‘কিংমেকার’ হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করেছে।
মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত প্রাইমারিতে তার সমর্থিত তিনজন প্রগতিশীল প্রার্থী জয় লাভ করেন। তাদের মধ্যে দুজন সরাসরি প্রতিষ্ঠিত ও ক্ষমতাধর ডেমোক্রেটিক নেতাদের পরাজিত করেছেন, যা নিউইয়র্কের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
গত বছর নিউইয়র্কের মেয়র নির্বাচনে সাবেক গভর্নর Andrew Cuomo-কে হারিয়ে আলোচনায় আসেন মামদানি। অনেকেই তখন এটিকে ব্যতিক্রমী রাজনৈতিক ঘটনা হিসেবে দেখেছিলেন। কিন্তু এবারের নির্বাচনের ফলাফল তার রাজনৈতিক উত্থানকে সাময়িক নয়, বরং একটি বৃহত্তর আন্দোলনের অংশ হিসেবে তুলে ধরেছে।
বিজয়ী প্রার্থীদের সঙ্গে ব্রুকলিনে আয়োজিত সমাবেশে মামদানি বলেন, গত বছরের সাফল্য কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না; বরং সেটি ছিল একটি নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা। তার ভাষায়, নিউইয়র্কের ভোটাররা পরিবর্তনের পক্ষে এবং নতুন ধরনের রাজনীতির প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
তার সমর্থিত প্রার্থীদের মধ্যে ছিলেন সাবেক সিটি কম্পট্রোলার Brad Lander, প্রগতিশীল রাজনীতিক Claire Valdez এবং সমাজতান্ত্রিক কর্মী Darializa Avila Chevalier। এই তিনজনের বিজয় নিউইয়র্কে ডেমোক্রেটিক সোশালিস্ট আন্দোলনের শক্তিশালী অবস্থানকেই সামনে নিয়ে এসেছে।
এই ফলাফল ডেমোক্রেটিক পার্টির মূলধারার নেতৃত্বের জন্যও একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে দলের প্রভাবশালী নেতা Hakeem Jeffries-এর রাজনৈতিক বলয়ে থাকা একাধিক প্রার্থী পরাজিত হওয়ায় ওয়াশিংটন পর্যন্ত এর প্রতিক্রিয়া পৌঁছেছে।
তবে মামদানির উত্থান দলীয় ভেতরে বিতর্কও তৈরি করেছে। সমালোচকদের অভিযোগ, তিনি প্রায়শই দলের প্রচলিত জোট রাজনীতির বাইরে গিয়ে নিজের রাজনৈতিক দর্শনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রার্থীদেরই অগ্রাধিকার দেন। ফলে ডেমোক্রেটিক পার্টির অভ্যন্তরে মতাদর্শগত বিভাজন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
পররাষ্ট্রনীতি, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য এবং ইসরাইল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে মামদানির অবস্থানও ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তার সমর্থকরা এটিকে মানবাধিকারভিত্তিক নীতি হিসেবে দেখলেও বিরোধীরা এটিকে রাজনৈতিক মেরুকরণ বৃদ্ধির কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন।
অন্যদিকে মামদানির ঘনিষ্ঠরা বলছেন, তাদের রাজনীতি কোনো কর্পোরেট অর্থায়ন বা প্রভাবশালী লবিস্টদের ওপর নির্ভরশীল নয়। বরং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়, আবাসন সংকট, স্বাস্থ্যসেবা এবং সামাজিক বৈষম্যের মতো ইস্যুগুলোকে সামনে রেখেই তারা এগোচ্ছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিউইয়র্কে শুরু হওয়া এই পরিবর্তন ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায়ের ডেমোক্রেটিক রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ মামদানির নেতৃত্বে গড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের প্রগতিশীল রাজনীতি এখন শুধু একটি শহর বা অঙ্গরাজ্যের সীমায় আটকে নেই; এটি যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর রাজনৈতিক বাস্তবতার অংশ হয়ে উঠছে।