তীব্র তাপপ্রবাহে যখন নিউইয়র্কবাসী গরমে হাঁসফাঁস করছেন, ঠিক সেই সময় বাড়ির এয়ার কন্ডিশনার ৭৮ ডিগ্রি ফারেনহাইটে রাখার পরামর্শ দিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বার্তায় তিনি নগরবাসীকে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের আহ্বান জানান। তার বক্তব্য, শহরের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা বর্তমানে অতিরিক্ত চাপের মধ্যে রয়েছে। সবাই যদি এসির তাপমাত্রা ৭৮ […]
ছবি: সংগৃহীত
তীব্র তাপপ্রবাহে যখন নিউইয়র্কবাসী গরমে হাঁসফাঁস করছেন, ঠিক সেই সময় বাড়ির এয়ার কন্ডিশনার ৭৮ ডিগ্রি ফারেনহাইটে রাখার পরামর্শ দিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বার্তায় তিনি নগরবাসীকে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের আহ্বান জানান। তার বক্তব্য, শহরের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা বর্তমানে অতিরিক্ত চাপের মধ্যে রয়েছে। সবাই যদি এসির তাপমাত্রা ৭৮ ডিগ্রি ফারেনহাইটে রাখেন, অপ্রয়োজনীয় লাইট ও বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি বন্ধ রাখেন এবং অপ্রয়োজনীয় ডিভাইসের প্লাগ খুলে রাখেন, তাহলে বিদ্যুৎ গ্রিডের ওপর চাপ কমবে এবং সম্ভাব্য ব্ল্যাকআউটের ঝুঁকিও হ্রাস পাবে।
আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, নিউইয়র্ক সিটিতে তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, যা ২০১২ সালের পর এই প্রথমবারের মতো তিন অঙ্কের তাপমাত্রার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। একই সঙ্গে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার সমন্বয়ে অনুভূত তাপমাত্রা আরও বেশি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ।
তবে মেয়রের এই আহ্বান ভালোভাবে গ্রহণ করেননি অনেক নিউইয়র্কবাসী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসংখ্য ব্যবহারকারী প্রশ্ন তুলেছেন, যখন বাইরের তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রির কাছাকাছি পৌঁছে যাচ্ছে, তখন মানুষকে কীভাবে এসি কম ব্যবহার করতে বলা হয়। অনেকেই এটিকে বাস্তবতা বিবর্জিত পরামর্শ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
সমালোচকদের একটি বড় অংশ টাইমস স্কয়ারের মতো এলাকায় সারাক্ষণ জ্বলে থাকা বিশাল ডিজিটাল বিলবোর্ড ও বাণিজ্যিক আলোকসজ্জার দিকে ইঙ্গিত করে মেয়রের আহ্বানকে দ্বিচারিতা বলেও আখ্যায়িত করেছেন। তাদের প্রশ্ন, সাধারণ নাগরিকদের বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের কথা বলা হলেও বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিষয়ে কেন একই ধরনের উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।
তবে মেয়রের কার্যালয় স্পষ্ট করেছে যে এটি কোনো বাধ্যতামূলক নির্দেশ নয়। বরং বিদ্যুৎ সাশ্রয় এবং জরুরি পরিস্থিতিতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে দেওয়া একটি স্বেচ্ছামূলক পরামর্শ মাত্র। একই সঙ্গে শহরের সরকারি ভবনগুলোতেও ৭৮ ডিগ্রি নীতি অনুসরণ, অপ্রয়োজনীয় আলো বন্ধ রাখা এবং বিদ্যুৎ ব্যবহার কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রীষ্মকালে এসির তাপমাত্রা ৭৫ থেকে ৭৮ ডিগ্রি ফারেনহাইটের মধ্যে রাখলে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয় এবং গ্রিডের ওপর চাপ কমে। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগও দীর্ঘদিন ধরে একই ধরনের সুপারিশ করে আসছে।
এদিকে সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, নিউইয়র্কের অর্ধেকের বেশি বাসিন্দা উচ্চ বিদ্যুৎ বিলের কারণে এসির ব্যবহার সীমিত রাখতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে বিদ্যুৎ সাশ্রয় নিয়ে বিতর্কের পাশাপাশি জীবনযাত্রার ব্যয় এবং জ্বালানি খরচের বিষয়টিও নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে।