ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযান কয়েক সপ্তাহ নয়, বরং কয়েক মাস পর্যন্ত দীর্ঘায়িত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের জন্য ইতোমধ্যে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড অতিরিক্ত সামরিক গোয়েন্দা কর্মকর্তা মোতায়েনের জন্য পেন্টাগনের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে। […]
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযান কয়েক সপ্তাহ নয়, বরং কয়েক মাস পর্যন্ত দীর্ঘায়িত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের জন্য ইতোমধ্যে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড অতিরিক্ত সামরিক গোয়েন্দা কর্মকর্তা মোতায়েনের জন্য পেন্টাগনের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে। এসব কর্মকর্তাকে ফ্লোরিডার টাম্পায় অবস্থিত সদর দপ্তরে পাঠানো হতে পারে। তারা অন্তত ১০০ দিন পর্যন্ত ইরানবিরোধী সামরিক অভিযানে কাজ করতে পারেন, যা প্রয়োজনে সেপ্টেম্বর পর্যন্তও গড়াতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ থেকে ধারণা পাওয়া যায় যে ওয়াশিংটন শুরুতে যে সময়সীমার কথা বলেছিল, তার চেয়ে অনেক বেশি সময় ধরে অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে। তবে পরিস্থিতি অনুযায়ী সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার সম্ভাবনার কথাও তিনি উল্লেখ করেছিলেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এ ধরনের বড় সামরিক অভিযান সাধারণত অনেক আগেই পরিকল্পনা করা হয়। কিন্তু পেন্টাগনের ভেতরে দ্রুত অতিরিক্ত জনবল ও সম্পদ জোগাড়ের চেষ্টা দেখাচ্ছে যে সংঘাতের ব্যাপ্তি নিয়ে শুরুতে পুরোপুরি প্রস্তুত ছিল না যুক্তরাষ্ট্র।
আগের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ট্রাম্প প্রশাসনের কিছু শীর্ষ উপদেষ্টা চেয়েছিলেন—প্রথমে ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালাবে, এরপর যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সংঘাতে যুক্ত হবে। শেষ পর্যন্ত সেই ধারাবাহিকতাই বাস্তবে ঘটেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় এখন পর্যন্ত হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন কয়েক শতাধিক। নিহতদের মধ্যে অন্তত ১৬৫ জন শিশু রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চালানো দ্বৈত হামলায় এসব শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ইরানের হামলায় কুয়েতে ছয়জন মার্কিন সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন।
চলমান এই সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতেও বড় ইস্যু হয়ে উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অনেক সমর্থকই মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি দীর্ঘ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার বিরোধিতা করছেন, ফলে দেশটির অভ্যন্তরে রাজনৈতিক বিতর্কও বাড়ছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও স্বীকার করেছেন যে ইসরায়েলের পদক্ষেপের ফলে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, ইসরায়েল হামলা চালাবে—এ বিষয়টি আগেই জানা ছিল এবং এর ফলে মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলার ঝুঁকিও ছিল।
এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে এই অভিযান দীর্ঘদিনের পরিকল্পনার অংশ। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায়ই এই সামরিক অভিযান পরিচালিত হচ্ছে এবং এতে মার্কিন প্রশাসনের পূর্ণ সহযোগিতা রয়েছে।