ভোলার চরফ্যাশনে এইচএসসি পরীক্ষায় নকল বা দেখাদেখি করে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ না পেয়ে একদল পরীক্ষার্থী ফাতেমা মতিন মহিলা কলেজ কেন্দ্রের ভেতরে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জের পাশাপাশি দুই রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, পরীক্ষা চলাকালে কক্ষ পরিদর্শকরা নকল প্রতিরোধে কঠোর অবস্থান নেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে পরীক্ষার্থীদের একটি […]
ছবি: সংগৃহীত
ভোলার চরফ্যাশনে এইচএসসি পরীক্ষায় নকল বা দেখাদেখি করে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ না পেয়ে একদল পরীক্ষার্থী ফাতেমা মতিন মহিলা কলেজ কেন্দ্রের ভেতরে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জের পাশাপাশি দুই রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, পরীক্ষা চলাকালে কক্ষ পরিদর্শকরা নকল প্রতিরোধে কঠোর অবস্থান নেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে পরীক্ষার্থীদের একটি অংশ পরীক্ষা শেষে বহিরাগতদের সঙ্গে নিয়ে কলেজের প্রধান ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে।
একপর্যায়ে তারা কলেজের বিভিন্ন অংশে ভাঙচুর চালায় এবং অধ্যক্ষের কার্যালয়ে হামলা করে। এছাড়া পরীক্ষার খাতা ছিনিয়ে নেওয়ারও চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হামলাকারীদের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং দুই রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে।
এ ঘটনায় কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. হুমায়ুন কবির সিকদারসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
ফাতেমা মতিন মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মহিউদ্দিন বলেন, পরীক্ষার্থীদের একটি অংশ দাবি করেছিল, প্রশ্ন কঠিন হওয়ায় তাদের দেখাদেখি করে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দিতে হবে। কিন্তু দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করেন। এর জেরেই পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর বহিরাগতদের নিয়ে কলেজে হামলা চালানো হয়।
তিনি আরও বলেন, হামলাকারীরা কলেজের গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে, অধ্যক্ষের কক্ষ ভাঙচুর করে এবং পরীক্ষার খাতা লুট করার চেষ্টা চালায়। শিক্ষক ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা ঝুঁকি নিয়ে পরীক্ষার খাতাগুলো রক্ষা করেন।
ঘটনার খবর পেয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং অন্যান্য প্রশাসনিক কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। কোস্টগার্ড সদস্যরাও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
ভোলার পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে এবং বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। হামলার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তদন্ত চলছে।