নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডে একটি মসজিদের সম্প্রসারণ ঠেকাতে আইনি লড়াইয়ে নেমে ২ লাখ ৫৭ হাজার ডলারের বেশি ব্যয় করেছে নর্থ হেম্পস্টেড টাউন কর্তৃপক্ষ। তবে শেষ পর্যন্ত ফেডারেল আদালতে সমঝোতায় পৌঁছে মসজিদটির সম্প্রসারণে শর্তসাপেক্ষে অনুমতি দিতে বাধ্য হয়েছে তারা। স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই আইনি লড়াইয়ের ব্যয় করদাতাদের অর্থ থেকেই বহন করা হয়েছে। মামলাটির কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল […]
ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডে একটি মসজিদের সম্প্রসারণ ঠেকাতে আইনি লড়াইয়ে নেমে ২ লাখ ৫৭ হাজার ডলারের বেশি ব্যয় করেছে নর্থ হেম্পস্টেড টাউন কর্তৃপক্ষ। তবে শেষ পর্যন্ত ফেডারেল আদালতে সমঝোতায় পৌঁছে মসজিদটির সম্প্রসারণে শর্তসাপেক্ষে অনুমতি দিতে বাধ্য হয়েছে তারা। স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই আইনি লড়াইয়ের ব্যয় করদাতাদের অর্থ থেকেই বহন করা হয়েছে।
মামলাটির কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল নিউ হাইড পার্কে অবস্থিত হিলসাইড ইসলামিক সেন্টার। ২০২৪ সালে নর্থ হেম্পস্টেড টাউন বোর্ড মসজিদের সম্প্রসারণ পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করলে চলতি বছরের মার্চ মাসে মসজিদ কর্তৃপক্ষ ফেডারেল আদালতে মামলা করে।
মসজিদ কর্তৃপক্ষের অভিযোগ ছিল, তাদের সম্প্রসারণ প্রকল্পটি প্রযোজ্য জোনিং বিধিমালার সব শর্ত পূরণ করলেও ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে অন্যায়ভাবে অনুমোদন আটকে দেওয়া হয়েছে। মামলায় তারা যুক্তরাষ্ট্রের Religious Land Use and Institutionalized Persons Act (RLUIPA) এবং যুক্তরাষ্ট্র ও নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সংবিধানের অধীনে তাদের অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ধরেন।
মামলা চলাকালেই উভয় পক্ষ আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছায়। গত ১৭ এপ্রিল ফেডারেল আদালত সেই সমঝোতা অনুমোদন করে।
সমঝোতা চুক্তি অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ সাপেক্ষে হিলসাইড ইসলামিক সেন্টারকে তাদের সম্প্রসারণ প্রকল্প বাস্তবায়নের অনুমতি দেওয়া হবে। একই সঙ্গে নর্থ হেম্পস্টেড টাউন কর্তৃপক্ষ মোট ৫ লাখ ৫০ হাজার ডলার পরিশোধে সম্মত হয়েছে।
এই অর্থের মধ্যে ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ হিসেবে এবং বাকি ৪ লাখ ডলার আইনজীবীদের ফি ও মামলার অন্যান্য ব্যয় বাবদ প্রদান করা হবে। তবে সমঝোতা চুক্তিতে কোনো পক্ষই নিজেদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ স্বীকার করেনি।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এই সমঝোতা অর্থের বাইরে শুধু টাউন কর্তৃপক্ষের নিযুক্ত বাইরের আইনজীবীদের পারিশ্রমিক ও আইনি সেবার জন্যই ব্যয় হয়েছে ২ লাখ ৫৭ হাজার ডলারের বেশি। ফলে পুরো মামলাটি করদাতাদের ওপর উল্লেখযোগ্য আর্থিক চাপ সৃষ্টি করেছে বলে সমালোচনা উঠেছে।
হিলসাইড ইসলামিক সেন্টার দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছিল, বর্তমান ভবনটি ক্রমবর্ধমান মুসল্লিদের জন্য পর্যাপ্ত নয়। মসজিদ সম্প্রসারণের মাধ্যমে বড় নামাজের স্থান, ধর্মীয় শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ এবং কমিউনিটি সেবার পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনা ছিল তাদের।
ফেডারেল আদালতের এই সমঝোতার মাধ্যমে সেই সম্প্রসারণ প্রকল্প বাস্তবায়নের পথ এখন উন্মুক্ত হয়েছে। মসজিদ কর্তৃপক্ষের আশা, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় মুসলিম কমিউনিটির ধর্মীয় ও সামাজিক কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।