যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটিতে সরকারি মালিকানাধীন গ্রোসারি শপ বা মুদি দোকান স্থায়ীভাবে চালু রাখতে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের সদস্য জেনিফার গুতেরেজ এবং তার কয়েকজন সহকর্মী এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব কাউন্সিলে উত্থাপন করেছেন। প্রস্তাব অনুযায়ী, নিউইয়র্ক সিটির পাঁচটি বরোর প্রতিটিতে অন্তত পাঁচটি করে সরকারি গ্রোসারি শপ প্রতিষ্ঠা বাধ্যতামূলক করা হবে। আইনপ্রণেতাদের দাবি, […]
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটিতে সরকারি মালিকানাধীন গ্রোসারি শপ বা মুদি দোকান স্থায়ীভাবে চালু রাখতে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের সদস্য জেনিফার গুতেরেজ এবং তার কয়েকজন সহকর্মী এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব কাউন্সিলে উত্থাপন করেছেন।
প্রস্তাব অনুযায়ী, নিউইয়র্ক সিটির পাঁচটি বরোর প্রতিটিতে অন্তত পাঁচটি করে সরকারি গ্রোসারি শপ প্রতিষ্ঠা বাধ্যতামূলক করা হবে। আইনপ্রণেতাদের দাবি, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শহরজুড়ে সাশ্রয়ী মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
বর্তমানে মেয়র জোহরান মামদানি প্রশাসন তার প্রথম মেয়াদের মধ্যেই প্রতিটি বরোতে অন্তত একটি করে সরকারি গ্রোসারি শপ চালুর পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। তবে কাউন্সিল সদস্য জেনিফার গুতেরেজ মনে করেন, এটি শুধু একটি প্রশাসনিক প্রকল্প হিসেবে সীমাবদ্ধ না রেখে আইনের মাধ্যমে স্থায়ী রূপ দেওয়া প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যৎ প্রশাসন পরিবর্তন হলেও কর্মসূচিটি বহাল থাকে।
নতুন প্রস্তাবে বলা হয়েছে, স্মল বিজনেস সার্ভিসেস বিভাগের কমিশনার অথবা মেয়রের মনোনীত অন্য কোনো সংস্থার প্রধানকে প্রতিটি বরোতে ন্যূনতম পাঁচটি সরকারি গ্রোসারি শপ প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব নিতে হবে। প্রয়োজনে বেসরকারি অংশীদার প্রতিষ্ঠান বা বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতাও নেওয়া যেতে পারে।
মেয়র মামদানির এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো সরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় অতিরিক্ত মধ্যস্বত্বভোগী ব্যয় কমিয়ে সাধারণ মানুষের জন্য কম দামে মানসম্মত পণ্য নিশ্চিত করা। প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারি গ্রোসারি শপগুলো শহরের খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি নিম্ন ও মধ্য আয়ের পরিবারগুলোর জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে সহায়ক হবে।
প্রকল্পের প্রাথমিক বাস্তবায়নের জন্য ইতোমধ্যে ৭ কোটি ডলারের একটি বিশেষ তহবিল বরাদ্দ করা হয়েছে। এই অর্থ ব্যবহার করে প্রথম ধাপে পাঁচটি বরোতে সরকারি গ্রোসারি শপ প্রতিষ্ঠা করা হবে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, দোকানের জমি, অবকাঠামো নির্মাণ এবং ভাড়াসহ সব ধরনের মূলধনী ব্যয় বহন করবে নিউইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে নির্বাচিত কোনো বেসরকারি অপারেটর এসব দোকানের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করবে। তবে শর্ত থাকবে, সরকারি সুবিধার কারণে সাশ্রয় হওয়া অর্থ সরাসরি পণ্যের দাম কমানোর মাধ্যমে ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।
ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট হিসেবে পরিচিত মেয়র জোহরান মামদানি গত বছর নিউইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচনে জয়ী হন এবং চলতি বছরের জানুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং খাদ্যপণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে বিকল্প উদ্যোগ হিসেবে সরকারি গ্রোসারি শপের ধারণাকে গুরুত্ব দিয়ে আসছেন।
আইনটি পাস হলে নিউইয়র্ক সিটিতে সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত গ্রোসারি শপের ধারণা একটি দীর্ঘমেয়াদি জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিতে পরিণত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।