নিজের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে প্রকাশিত সংবাদকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তার দাবি, গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের সঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রকৃত প্রতিবেদনের কোনো মিল নেই। এ নিয়ে প্রকাশিত সংবাদ এবং দুদকের বক্তব্য প্রত্যাহার না করা হলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আইনি ব্যবস্থা […]
ছবি: সংগৃহীত
নিজের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে প্রকাশিত সংবাদকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তার দাবি, গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের সঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রকৃত প্রতিবেদনের কোনো মিল নেই।
এ নিয়ে প্রকাশিত সংবাদ এবং দুদকের বক্তব্য প্রত্যাহার না করা হলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। এমনকি প্রয়োজন হলে মানহানির মামলাও করবেন বলে জানিয়েছেন আসিফ মাহমুদ।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) এনসিপি কার্যালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন আসিফ মাহমুদ।
তিনি বলেন, ‘মিডিয়ার রিপোর্টের সঙ্গে দুদকের রিপোর্টের মিল নেই।’
তার অভিযোগ, দুদকের মুখপাত্রের বক্তব্যের বরাতে যেসব সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে, সেগুলোও সঠিকভাবে উপস্থাপিত হয়নি।
আসিফ মাহমুদ বলেন, দুদকের মুখপাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তার বক্তব্য প্রত্যাহার না করলে এবং সেই বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত সংবাদগুলো সরিয়ে না নিলে তিনি আইনি প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেবেন।
তার বিরুদ্ধে ৩৮ জন কর্মকর্তাকে চলতি দায়িত্ব থেকে পূর্ণ মেয়াদে পদায়নের যে অভিযোগ উঠেছে, সে বিষয়ে আসিফ মাহমুদের দাবি, আদালতের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতেই ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
এ প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘দুদক কি আদালতের রায়কে চ্যালেঞ্জ করছে?’
তার বক্তব্য অনুযায়ী, বিষয়টি তার একক সিদ্ধান্ত ছিল না; বরং আদালতের রায়ের ভিত্তিতেই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা হয়েছিল।
এ ছাড়া ১৮২ জন কর্মকর্তার পদোন্নতির বিষয়েও নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন আসিফ মাহমুদ।
তিনি দাবি করেন, সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) নিয়ম মেনেই এসব পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য, তার বিরুদ্ধে যে দুটি বিষয়কে কেন্দ্র করে অভিযোগ তোলা হয়েছে, সেগুলো ভিন্ন প্রেক্ষাপটে ঘটলেও গণমাধ্যমে বিষয়গুলো অন্যভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও দাবি করেন আসিফ মাহমুদ।
তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিকভাবে ফাঁসানো হয়েছে, দুটো ঘটনাই সচিব পর্যায়ে সম্পন্ন হয়েছে।’
এ সময় সরকারের দলের দুর্নীতি আড়াল করতে তাকে ঘিরে সংবাদ প্রকাশ করানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আসিফ মাহমুদের ভাষ্য, ‘সরকারি দলের দিনের আলোতে করা দুর্নীতি আড়াল করতে আমার বিরুদ্ধে নিউজ করানো হচ্ছে।’
তদন্তকারী সংস্থার দায়িত্বশীল ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এনসিপির এই মুখপাত্র। তার মতে, কোনো অভিযোগ নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার আগে বিষয়টি যথাযথভাবে যাচাই করা জরুরি।
বিশেষ করে অভিযোগ যাচাই এবং তদন্তের বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে দুদককে আরও সতর্ক ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
শেষ পর্যন্ত নিজের অবস্থান আরও স্পষ্ট করে আসিফ মাহমুদ বলেন, তার বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদ প্রত্যাহার বা মুছে ফেলা না হলে তিনি আইনি ব্যবস্থা নেবেন।
তিনি বলেন, ‘নিউজ ডিলিট না করলে মানহানির মামলা করব। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দুদক বক্তব্য প্রত্যাখ্যান না করলে আইনি প্রক্রিয়ায় মানহানির মামলা করব।’
ব্রিফিংয়ে দুদকের সংস্কার প্রসঙ্গেও কথা বলেন আসিফ মাহমুদ। এ সময় বিএনপির ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি দাবি করেন, দুদক সংস্কারের প্রক্রিয়াকে দলটি সমর্থন না করার পেছনেও এ ধরনের বিষয় ভূমিকা রেখেছে।
একই সঙ্গে সরকারের প্রতি বিরোধী মত দমনের রাজনীতি থেকে সরে আসার আহ্বান জানান তিনি।