বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের সব রেকর্ড, পরিসংখ্যান ও মাইলফলক ক্রিকেটের ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার দাবি জানিয়েছেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। শুক্রবার (৭ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ দাবি জানান। একই সঙ্গে সাকিবের রাজনৈতিক ভূমিকা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের সঙ্গে […]
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের সব রেকর্ড, পরিসংখ্যান ও মাইলফলক ক্রিকেটের ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার দাবি জানিয়েছেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ দাবি জানান। একই সঙ্গে সাকিবের রাজনৈতিক ভূমিকা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততারও তীব্র সমালোচনা করেন শফিকুল আলম।
পোস্টে শফিকুল আলম দাবি করেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) উচিত সাকিব আল হাসানের সব রেকর্ড ও অর্জন মুছে ফেলা। তার ভাষ্য, একজন ‘দণ্ডপ্রাপ্ত গণহত্যাকারীর পূজারী’র ক্রিকেট ইতিহাসে কোনো স্থান থাকা উচিত নয়।
নিজের বক্তব্যের পক্ষে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার কয়েকজন সাবেক ক্রিকেটারের উদাহরণ টানেন। ব্যারি রিচার্ডস, গ্রায়েম ও পিটার পোলক, মাইক প্রোক্টর এবং এডি বার্লোর নাম উল্লেখ করে শফিকুল বলেন, তারা সাকিবের চেয়েও বড় মাপের ক্রিকেটার ছিলেন এবং বর্ণবাদী শাসনব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কারণে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ হয়েছিলেন।
সাকিবের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গে শফিকুল আলম বলেন, ভবিষ্যতে বিসিবি সভাপতি হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে সাকিব একটি বিতর্কিত রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েছেন বলে তিনি মনে করেন। একই সঙ্গে শেখ হাসিনার সরকারের সঙ্গে সাকিবের সম্পর্ক এবং ওই সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি।
শফিকুল আলম আরও দাবি করেন, শেখ হাসিনা সরকারের সময় সংঘটিত বিভিন্ন ঘটনার বিষয়ে সাকিবের মধ্যে যথেষ্ট অনুশোচনা দেখা যায়নি। এ কারণে তিনি বাংলাদেশের ক্রিকেটে ‘গণহত্যাকারীর পূজারী’ বা ‘ফ্যাসিবাদী সরকারের চাটুকারদের’ স্থান থাকা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন।
পোস্টের শেষাংশে শফিকুল আলম ২০০৯ সালের বিডিআর সদর দপ্তরের হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। ওই ঘটনায় বিভিন্ন ক্রীড়াবিদের সাজা পাওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, তাদের জন্য কেউ ক্ষমা বা সহানুভূতি দাবি করেননি কেন।
সাকিব আল হাসান বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সফল খেলোয়াড়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে একাধিক রেকর্ড ও মাইলফলক রয়েছে। তবে ক্রিকেটের বাইরে তার রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা ও সমালোচনা রয়েছে।
এর আগেও সাকিবের রাজনীতিতে অংশগ্রহণের সমালোচনা করেছিলেন শফিকুল আলম। ২০২৫ সালে তিনি সাকিবের আওয়ামী লীগের হয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তকে ‘অনুপযুক্ত’ বলে মন্তব্য করেছিলেন এবং দলটির সঙ্গে সাকিবের সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।
তবে সাকিবের ক্রিকেটীয় রেকর্ড মুছে ফেলার বিষয়ে শফিকুল আলমের সর্বশেষ দাবিটি তার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বক্তব্য হিসেবে এসেছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা বক্তব্যের তথ্য পাওয়া যায়নি।