প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। ২০২৮ সাল থেকে নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে চারটি নতুন বাধ্যতামূলক বিষয় যুক্ত করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে চতুর্থ শ্রেণিতে দুটি এবং ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে আরও দুটি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। সোমবার (৮ জুন) সচিবালয়ে শিক্ষা বিষয়ে সরকারের ১৮০ দিনের […]
ছবি: সংগৃহীত
প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। ২০২৮ সাল থেকে নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে চারটি নতুন বাধ্যতামূলক বিষয় যুক্ত করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে চতুর্থ শ্রেণিতে দুটি এবং ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে আরও দুটি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
সোমবার (৮ জুন) সচিবালয়ে শিক্ষা বিষয়ে সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচি উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার তখনকার নতুন শিক্ষাক্রম থেকে সরে এসে ২০১২ সালের শিক্ষাক্রমের আলোকে পাঠ্যপুস্তক পরিমার্জনের কাজ শুরু করে। একই সঙ্গে বাংলা ও ইংরেজি পাঠ্যবইয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সম্পর্কিত কবিতা, প্রবন্ধ ও গদ্য সংযোজন করা হয়েছে। পরে ইতিহাসের অংশ হিসেবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের বিষয়বস্তু বিভিন্ন শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়েও যুক্ত করা হয়।
সরকার জানিয়েছে, আগামী শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়েও ইতিহাস ও দক্ষতাভিত্তিক বিষয়গুলোতে পরিবর্তন আনা হবে। পাশাপাশি নতুন চারটি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী চতুর্থ শ্রেণি থেকে ‘ক্রীড়া’ এবং ‘সংস্কৃতি’ নামে দুটি নতুন বিষয় চালু করা হবে। এছাড়া ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ‘কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা’ এবং ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ নামে আরও দুটি বাধ্যতামূলক বিষয় যুক্ত হবে।
তিনি বলেন, ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ শুধু একটি বিষয় হিসেবে নয়, বরং শিক্ষার্থীদের মূল্যবোধ, মানবিকতা ও নাগরিক দায়িত্ববোধ গড়ে তোলার একটি সমন্বিত উদ্যোগ হিসেবেও কাজ করবে। একই সঙ্গে এই কর্মসূচির আওতায় শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও পাঠদান পদ্ধতির উন্নয়নও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
মাহদী আমিন আরও জানান, শিক্ষার্থীদের তৃতীয় ভাষা শেখানোর বিষয়েও সরকার কাজ করছে। বিদ্যমান পাঠ্যক্রমের মধ্যেই এ বিষয়ে একটি বড় অধ্যায় সংযোজনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনায় শিক্ষা ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী ও বাস্তবমুখী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
নতুন বিষয়গুলো কবে থেকে চালু হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, একটি পূর্ণাঙ্গ শিক্ষাক্রম পরিবর্তন কয়েক মাসের মধ্যে সম্ভব নয়। তাই ২০২৭ সালের জন্য বিদ্যমান শিক্ষাক্রম পরিমার্জন করে পাঠ্যবই প্রস্তুত করা হচ্ছে। পাশাপাশি নতুন শিক্ষাক্রম তৈরির কাজও শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, সরকারের পরিকল্পনা হলো ২০২৮ সাল থেকে নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন শুরু করা। তবে এটি একযোগে সব শ্রেণিতে চালু হবে নাকি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, নতুন শিক্ষাক্রমে শিখনফল অর্জনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। শিক্ষার্থীরা বাস্তব জীবনে কতটুকু দক্ষতা অর্জন করছে এবং শেখা বিষয়গুলো কতটা প্রয়োগ করতে পারছে, সেই বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করেই ভবিষ্যতের শিক্ষা কাঠামো গড়ে তোলা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম আমানুল্লাহ।
সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় পর্যায়ের স্টার্টআপ, বিজ্ঞান প্রকল্প, ইনোভেশন আইডিয়া প্রদর্শনী, প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট এবং শিক্ষা খাতের বিভিন্ন চলমান উদ্যোগ সম্পর্কেও তথ্য তুলে ধরা হয়।