সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

জাতীয়
১২:২৩ পিএম, ২২ অক্টোবর ২০২৫

বাংলাদেশে শ্রমিক অধিকার উন্নয়নে ঐতিহাসিক দিন আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার তিনটি কনভেনশনে অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাক্ষর

বাংলাদেশের শ্রমজীবী মানুষের অধিকার রক্ষায় একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো বুধবার। দেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) এর তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কনভেনশনে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর করেছে। এই স্বাক্ষর শ্রমিক সুরক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস উপস্থিত ছিলেন। […]

বাংলাদেশে শ্রমিক অধিকার উন্নয়নে ঐতিহাসিক দিন আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার তিনটি কনভেনশনে অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাক্ষর
নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

বাংলাদেশের শ্রমজীবী মানুষের অধিকার রক্ষায় একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো বুধবার। দেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) এর তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কনভেনশনে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর করেছে। এই স্বাক্ষর শ্রমিক সুরক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস উপস্থিত ছিলেন। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন তিনটি কনভেনশন অনুসমর্থন পত্রে স্বাক্ষর করেন। এই উদ্যোগ বাংলাদেশের শ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় একটি শক্তিশালী সংকেত প্রদান করেছে।

তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কনভেনশন ও তাদের তাৎপর্য

স্বাক্ষরিত কনভেনশনগুলো হলো:

  • পেশাগত নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য বিষয়ক কনভেনশন, ১৯৮১ (নং-১৫৫)
  • কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার মান উন্নয়নে প্রচারণামূলক কাঠামো কনভেনশন, ২০০৬ (নং-১৮৭)
  • কর্মক্ষেত্রে সহিংসতা ও হয়রানি প্রতিরোধ বিষয়ক কনভেনশন, ২০১৯ (নং-১৯০)

বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, ১৫৫ ও ১৮৭ নম্বর কনভেনশন দুটি আইএলও’র মৌলিক কনভেনশন হিসেবে ২০২২ সালে স্বীকৃত। এ কনভেনশনগুলো শ্রমিকদের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য এবং কর্মক্ষেত্রে সহিংসতা থেকে রক্ষা করার জন্য আন্তর্জাতিক মান নির্ধারণ করে।

রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির স্মৃতি ও প্রতিশ্রুতি

প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস ২০১৩ সালের রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির কথা স্মরণ করে বলেন, “তৎকালীন সরকার অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, কিন্তু কার্যকর কোনো পরিবর্তন হয়নি। আমরা বলেছিলাম, ‘হচ্ছে-হবে’ আর নয়, আমরা কাজ করব।” তিনি আরও যোগ করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর শ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠার উপর তার নজর ছিল সর্বাগ্রে। বহুবার বৈঠক ও আলোচনা করে এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের দিকে এগিয়ে আসা সম্ভব হয়েছে।

কর্মক্ষেত্রে শ্রমিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “এটি আমাদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল, যা আমরা সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সফল করেছি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শ্রমিক অধিকার রক্ষায় সবসময় আন্তরিক।”

আইএলও’র কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনোন বাংলাদেশ সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “কনভেনশন বাস্তবায়নে আইএলও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। শ্রম আইন সংস্কারেও আমরা সাহায্য দেব।”

প্রভাব ও ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি

এই কনভেনশনগুলো বাংলাদেশের শ্রম পরিবেশে ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে সহিংসতা ও হয়রানি কমাতে সহায়তা করবে। ফলে শ্রমিকদের জীবনমান উন্নত হবে এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অবদান বাড়বে।

নাগরিক ও শ্রমিক উভয়ের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক শ্রম মান অনুসরণ করে বাংলাদেশ একটি উন্নত ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার পথে এগিয়ে যাচ্ছে।

পাঠকের জন্য গুরুত্ব

শ্রমিকরা দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির মূল চালিকা শক্তি। তাদের নিরাপদ ও সুষ্ঠু কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। এই স্বাক্ষর বাংলাদেশের শ্রমিকদের জন্য দীর্ঘদিনের অধিকার আদায়ের এক বড় সাফল্য। যারা শ্রমজীবী, তাদের জীবনমান ও নিরাপত্তা উন্নয়নে এই পদক্ষেপ একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।

তাই এই খবর শ্রমিক, শ্রম আইন প্রণেতা, কর্মসংস্থান খাতে কাজ করা প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ জনগণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ