নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির প্রস্তাবিত ৯.৫ শতাংশ সম্পত্তি কর (প্রপার্টি ট্যাক্স) বৃদ্ধির পরিকল্পনা ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অর্থনীতি ও জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কর বৃদ্ধি কার্যকর হলে শহরের বাসিন্দাদের বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিল আরও বেড়ে যেতে পারে, যা ইতিমধ্যেই উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়ে জর্জরিত নিউইয়র্কবাসীর জন্য বড় চাপ সৃষ্টি করবে। মেয়র মামদানি […]
ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির প্রস্তাবিত ৯.৫ শতাংশ সম্পত্তি কর (প্রপার্টি ট্যাক্স) বৃদ্ধির পরিকল্পনা ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অর্থনীতি ও জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কর বৃদ্ধি কার্যকর হলে শহরের বাসিন্দাদের বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিল আরও বেড়ে যেতে পারে, যা ইতিমধ্যেই উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়ে জর্জরিত নিউইয়র্কবাসীর জন্য বড় চাপ সৃষ্টি করবে।
মেয়র মামদানি ১২৭ বিলিয়ন ডলারের প্রস্তাবিত বাজেট ঘাটতি সামাল দিতে প্রপার্টি ট্যাক্স বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, ইউটিলিটি কোম্পানিগুলোর ওপর করের বোঝা বাড়লেও শেষ পর্যন্ত সেই খরচ গ্রাহকদের ওপরই চাপানো হবে।
সাবেক পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান জন হাওয়ার্ড বলেন, “আপনি আসলে কন এডিসনকে কর দিচ্ছেন না—শেষ পর্যন্ত এই কর গ্রাহকদেরই দিতে হয়।” তার মতে, নিউইয়র্ক সিটিতে ইউটিলিটি কোম্পানিগুলোর ওপর আরোপিত করের হার এত বেশি যে তার প্রভাব সরাসরি বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিলের ওপর পড়ে।
ইউটিলিটি বিল বাড়ার আশঙ্কা
বর্তমানে নিউইয়র্কে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে Con Edison এবং গ্যাস সেবা দেয় National Grid। তথ্য অনুযায়ী, আগামী তিন বছরে বিদ্যুৎ বিল ১০.৪ শতাংশ এবং গ্যাস বিল ১৫.৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর অনুমোদন দিয়েছে নিউইয়র্ক স্টেট পাবলিক সার্ভিস কমিশন।
এতে গড় গ্রাহকদের ২০২৮ সালের মধ্যে বছরে প্রায় ৬০০ ডলার অতিরিক্ত ব্যয় করতে হতে পারে—মেয়রের প্রস্তাব কার্যকর হোক বা না হোক।
কন এডিসনের এক মুখপাত্র জানান, বর্তমানে তাদের মোট ডেলিভারি চার্জের প্রায় ৩০ শতাংশই বিভিন্ন কর ও ফি হিসেবে আদায় করা হয়, যার পরিমাণ বছরে ৩ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। অন্যদিকে ন্যাশনাল গ্রিডের গ্রাহক বিলের প্রায় ২৫ শতাংশই কর ও ফি।
গত মাসে প্রকাশিত পাবলিক সার্ভিস কমিশনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, নিউইয়র্কে ইউটিলিটি কোম্পানিগুলোর ওপর আরোপিত কর—বিশেষ করে সম্পত্তি কর—জাতীয় গড়ের তুলনায় তিন থেকে চার গুণ বেশি। জাতীয়ভাবে যেখানে গড় হার প্রায় ৮ শতাংশ, সেখানে নিউইয়র্কে এই হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
বাজেট সংকট ও রাজনৈতিক টানাপোড়েন
মেয়রের প্রাথমিক বাজেট প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রপার্টি ট্যাক্সের হার ১২.৮৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৩.৪৫ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। প্রস্তাবে ইউটিলিটি কোম্পানিগুলোকে কর বৃদ্ধির বাইরে রাখার কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত নেই।
মেয়র মামদানি জানান, এটি তার ‘শেষ বিকল্প’ বা পরিকল্পনা বি। তিনি নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের গভর্নর ও আইনপ্রণেতাদের ওপর ধনী ব্যক্তি ও করপোরেট কর বৃদ্ধির জন্য চাপ অব্যাহত রেখেছেন। তবে গভর্নর Kathy Hochul চলতি বছরে এই কর বৃদ্ধির প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছেন।
এছাড়া সিটি কাউন্সিলের অনেক সদস্য—এমনকি স্পিকার Julie Menin—এই প্রস্তাবকে কার্যত “শুরুতেই বাতিলযোগ্য” বলে মন্তব্য করেছেন।
সব মিলিয়ে, বাজেট ঘাটতি পূরণে কর বৃদ্ধি নাকি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়িয়ে দেবে—এই প্রশ্নেই এখন উত্তপ্ত নিউইয়র্কের রাজনৈতিক অঙ্গন।
সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট