যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নতুন নিষেধাজ্ঞাকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে চীন। সোমবার (২৭ এপ্রিল) বেইজিংয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেন, নিজেদের প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজন হলে চীন সব ধরনের পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা না করে ওয়াশিংটন যেভাবে একতরফা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে, চীন তা কোনোভাবেই মেনে […]
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নতুন নিষেধাজ্ঞাকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে চীন। সোমবার (২৭ এপ্রিল) বেইজিংয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেন, নিজেদের প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজন হলে চীন সব ধরনের পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা না করে ওয়াশিংটন যেভাবে একতরফা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে, চীন তা কোনোভাবেই মেনে নেবে না। তার ভাষায়, বেইজিং শুরু থেকেই এ ধরনের একতরফা চাপ ও নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে আসছে।
এর আগে গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ ইরান সংশ্লিষ্ট নতুন কিছু নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে। ওই নিষেধাজ্ঞার আওতায় চীনের একটি বড় স্বাধীন শোধনাগারসহ প্রায় ৪০টি প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, এসব প্রতিষ্ঠান ইরানের সঙ্গে অবৈধ তেল বাণিজ্যে জড়িত ছিল।
বিশেষ করে শানডং প্রদেশের কয়েকটি শোধনাগার এবং হেংলি পেট্রোকেমিক্যাল রিফাইনারি কোম্পানির বিরুদ্ধে এই অভিযোগ আনা হয়েছে। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র টমি পিগট বলেন, ইরানের তেল বাণিজ্য ঠেকাতেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
চীন এসব নিষেধাজ্ঞাকে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বহির্বিশ্বে নিজেদের আইনি এখতিয়ার চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হিসেবে দেখছে। লিন জিয়ান আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ভুল পথে হাঁটছে এবং বেইজিং তার কোম্পানিগুলোর বৈধ অধিকার রক্ষায় দৃঢ় থাকবে।
চীনের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রভাব ধরে রাখতে যুক্তরাষ্ট্র বারবার চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। এতে বিশ্ববাণিজ্যের স্থিতিশীলতা নষ্ট হচ্ছে এবং জ্বালানি বাজার ও সরবরাহ শৃঙ্খল আরও ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা যখন চরমে, তখন চীনা শোধনাগারগুলোর ওপর এই নিষেধাজ্ঞা বেইজিং ও ওয়াশিংটনের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি করেছে। চীন স্পষ্ট জানিয়েছে, এমন আচরণ তারা নীরবে মেনে নেবে না এবং প্রয়োজনে পাল্টা আইনি বা অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নিতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানি তেলের অন্যতম প্রধান ক্রেতা হিসেবে চীনকে চাপের মধ্যে রাখতেই যুক্তরাষ্ট্র এ পদক্ষেপ নিয়েছে। এখন নজর ১৪ মে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্ধারিত বৈঠকের দিকে। ওই আলোচনায় নিষেধাজ্ঞা ও জ্বালানি বাণিজ্য নিয়ে কী অবস্থান আসে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।