যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের চিকিৎসা ও পুষ্টিসহায়তার জন্য বরাদ্দ সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এনডুকা লুইস একপেনিয়ং নামে ৩৬ বছর বয়সী ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি মেডিকেইড কর্মসূচির আওতায় শিশুদের জন্য নির্ধারিত বিশেষ পুষ্টিকর ফর্মুলার পরিবর্তে কম দামের বিকল্প পণ্য সরবরাহ করতেন এবং সরকারের কাছে উচ্চমূল্যের চিকিৎসা-খাদ্যের বিল জমা দিতেন। […]
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের চিকিৎসা ও পুষ্টিসহায়তার জন্য বরাদ্দ সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এনডুকা লুইস একপেনিয়ং নামে ৩৬ বছর বয়সী ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি মেডিকেইড কর্মসূচির আওতায় শিশুদের জন্য নির্ধারিত বিশেষ পুষ্টিকর ফর্মুলার পরিবর্তে কম দামের বিকল্প পণ্য সরবরাহ করতেন এবং সরকারের কাছে উচ্চমূল্যের চিকিৎসা-খাদ্যের বিল জমা দিতেন।
নিউইয়র্ক স্টেটের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশা জেমসের কার্যালয়ের অভিযোগ অনুযায়ী, এভাবে তিনি প্রায় ২৬ লাখ ডলার সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।
আদালতে দাখিল করা নথি অনুসারে, ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত ব্রুকলিনভিত্তিক তার প্রতিষ্ঠান ‘ডিউক মেডিকেল এলএলসি’র মাধ্যমে এই জালিয়াতি সংঘটিত হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। চিকিৎসকেরা অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের জন্য যে বিশেষ ও ব্যয়বহুল পুষ্টি-ফর্মুলা নির্ধারণ করতেন, তার পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রে শিশুদের কম দামের ওভার-দ্য-কাউন্টার পণ্য দেওয়া হতো। অভিযোগ রয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে কোনো পণ্যই সরবরাহ করা হয়নি, অথচ সরকারি তহবিল থেকে পুরো অর্থ আদায় করা হয়েছে।
প্রসিকিউটরদের ভাষ্য, এই অনিয়মের কারণে বহু নিম্নআয়ের পরিবারের শিশু প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি এই অর্থ দিয়ে বিলাসবহুল জীবনযাপন করছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি নিউইয়র্কের অভিজাত হিউলেট এলাকায় প্রায় ১৬ লাখ ডলার ব্যয়ে একটি বাড়ি কেনেন। এছাড়া প্রায় ৭০ হাজার ডলারের একটি বেন্টলি, ৬৭ হাজার ডলারের একটি রেঞ্জ রোভারসহ একাধিক বিলাসবহুল সামগ্রীও কেনা হয়।
প্রসিকিউটরদের দাবি, বাড়ির প্রাঙ্গণে মার্বেল পাথরের ফোয়ারা, আউটডোর কিচেন এবং ব্যক্তিগত বাস্কেটবল কোর্টও নির্মাণ করা হয়েছিল। এছাড়া তার এক ঘনিষ্ঠ ব্যক্তির জন্য একটি মার্সিডিজ গাড়ি কেনার অভিযোগও তদন্তে উঠে এসেছে।
এক বিবৃতিতে অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশা জেমস এ ঘটনাকে ‘হৃদয়হীন প্রতারণা’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, যখন অনেক পরিবার তাদের সন্তানদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পুষ্টি নিশ্চিত করতে সংগ্রাম করছিল, তখন সরকারি সহায়তার অর্থ ব্যক্তিগত বিলাসিতায় ব্যয় করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এনডুকা লুইস একপেনিয়ংয়ের বিরুদ্ধে গ্র্যান্ড লারসেনি এবং স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতির ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে। পাশাপাশি আত্মসাৎ করা অর্থ এবং ক্ষতিপূরণ বাবদ মোট প্রায় ৭৬ লাখ ডলার আদায়ের লক্ষ্যে তার বিরুদ্ধে পৃথক দেওয়ানি মামলাও দায়ের করেছেন প্রসিকিউটররা।