সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

বাংলাদেশ
৩:১০ পিএম, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সংবিধান সংশোধনে নতুন গণভোটের প্রস্তাব, বাড়ছে রাজনৈতিক বিতর্ক

সংবিধান সংস্কার নাকি সংশোধন—এই বিতর্কের মধ্যেই নতুন করে গণভোটের প্রসঙ্গ সামনে এসেছে। সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, সংবিধানের মৌলিক কোনো বিষয়ে সংশোধন আনা হলে সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী গণভোটের প্রয়োজন হতে পারে। আগামী বছরের জানুয়ারিতে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে এ-সংক্রান্ত বিল উত্থাপনের সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সংসদে সংশোধনী […]

সংবিধান সংশোধনে নতুন গণভোটের প্রস্তাব, বাড়ছে রাজনৈতিক বিতর্ক

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

সংবিধান সংস্কার নাকি সংশোধন—এই বিতর্কের মধ্যেই নতুন করে গণভোটের প্রসঙ্গ সামনে এসেছে। সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, সংবিধানের মৌলিক কোনো বিষয়ে সংশোধন আনা হলে সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী গণভোটের প্রয়োজন হতে পারে। আগামী বছরের জানুয়ারিতে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে এ-সংক্রান্ত বিল উত্থাপনের সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সংসদে সংশোধনী বিল পাস হওয়ার পর রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের আগে যেসব বিধানে গণভোটের বাধ্যবাধকতা রয়েছে, সেসব বিষয়ে জনগণের মত নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের বিধান কার্যকর হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

নতুন করে গণভোটের এই প্রস্তাব ঘিরে অবশ্য রাজনৈতিক অঙ্গনে ভিন্নমত তৈরি হয়েছে। বিরোধী দলের কয়েকজন নেতা মনে করছেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি জুলাই জাতীয় সনদের বিষয়ে অনুষ্ঠিত গণভোটের পর আবার একই ধরনের প্রক্রিয়া শুরু হলে তা নতুন করে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নসংক্রান্ত বিষয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। সরকারি হিসাবে বৈধ ভোটের ৬৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ ‘হ্যাঁ’ পড়ে। ওই ফলের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কারের প্রক্রিয়া কীভাবে এগোবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এখনো মতপার্থক্য রয়েছে।

সংবিধানের গণভোটের বিধান নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ থেকে গণভোটের বিধান বাদ দেওয়া হয়েছিল। পরে উচ্চ আদালতের রায়ের মাধ্যমে ওই বিধান পুনর্বহাল হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, সরকার জুলাই জাতীয় সনদ বিএনপি যেভাবে স্বাক্ষর করেছে, সেভাবেই বাস্তবায়ন করবে। তবে সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সাংবিধানিক প্রক্রিয়াই অনুসরণ করা হবে।

এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম নতুন গণভোটের প্রস্তাবের সমালোচনা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, জুলাই সনদের গণভোটে পাওয়া জনমত উপেক্ষা করে সংবিধান সংশোধনের কথা বলে সরকার প্রক্রিয়াটি দীর্ঘায়িত করতে চাইছে। নতুন করে গণভোটের উদ্যোগকে তিনি সরকারের একটি কৌশল হিসেবে দেখছেন।

রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত আবদুল কাইয়ূমের মতে, জুলাই সনদের গণভোট ও সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের আওতায় সম্ভাব্য নতুন গণভোট এক বিষয় নয়। তাঁর দাবি, সরকার বর্তমান সংবিধানের কাঠামো অনুসরণ করে সংশোধনের দিকে এগোতে চাইছে। তিনি গণপরিষদ গঠনের মাধ্যমে সংবিধান সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছেন।

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নাও সংবিধান সংশোধন ও সংস্কারের প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল আচরণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর মতে, এ বিষয়ে সমঝোতা না হলে রাজনৈতিক সংকট আরও বাড়তে পারে।

নতুন গণভোটকে ঘিরে সম্ভাব্য সংকটের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, সংবিধান অনুযায়ী গণভোটের সুযোগ থাকলেও এর সঙ্গে ইতোমধ্যে অনুষ্ঠিত জুলাই সনদের গণভোটের সম্পর্ক স্পষ্ট না হলে নতুন করে বিরোধ তৈরি হতে পারে। আবার সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমন্বয় হলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে বলেও মত রয়েছে।

বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ বলেন, সংবিধান অনুযায়ী গণভোট আয়োজনের সুযোগ থাকলেও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সময় কেন সেই সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। তাঁর আশঙ্কা, নতুন গণভোটকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে সরকারের মতবিরোধ বাড়তে পারে।

এদিকে এনসিপি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নতুন করে গণভোটের উদ্যোগের বিরোধিতা করেছে। এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার এটিকে জনগণের দেওয়া রায়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদও বলেছেন, নতুন গণভোটের সিদ্ধান্ত তারা মেনে নেবেন না।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমানউল্লাহ আমান জানিয়েছেন, সরকার সংবিধানের বাইরে কোনো পদক্ষেপ নেবে না। তবে নতুন গণভোট নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে মন্তব্য করতে হবে বলে তিনি জানান।

ফলে এখন মূল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—জুলাই সনদের গণভোটের ফল বাস্তবায়নের সঙ্গে নতুন সাংবিধানিক গণভোটের সম্পর্ক কী হবে এবং সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়ায় সরকার ও বিরোধী দলগুলো কীভাবে একমত হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর ভিন্ন ব্যাখ্যার কারণে বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক আপাতত অব্যাহত রয়েছে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ