যুক্তরাষ্ট্রে নিম্নআয়ের মানুষের জন্য চালু থাকা খাদ্য সহায়তা কর্মসূচিতে নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে। ফেডারেল সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শ্রেণির কর্মক্ষম প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতি সপ্তাহে অন্তত ২০ ঘণ্টা কাজ করতে হবে। অন্যথায় তারা খাদ্য সহায়তা বা “ফুড স্ট্যাম্প” সুবিধা হারাতে পারেন। এই নতুন নীতিকে ঘিরে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে নিউইয়র্কসহ বড় […]
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে নিম্নআয়ের মানুষের জন্য চালু থাকা খাদ্য সহায়তা কর্মসূচিতে নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে। ফেডারেল সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শ্রেণির কর্মক্ষম প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতি সপ্তাহে অন্তত ২০ ঘণ্টা কাজ করতে হবে। অন্যথায় তারা খাদ্য সহায়তা বা “ফুড স্ট্যাম্প” সুবিধা হারাতে পারেন।
এই নতুন নীতিকে ঘিরে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে নিউইয়র্কসহ বড় শহরগুলোতে অনেক মানুষ এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, শুধু নিউইয়র্ক শহরেই প্রায় ৪০ হাজার মানুষ খাদ্য সহায়তা হারানোর ঝুঁকিতে আছেন।
দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর জন্য খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভরসা হিসেবে কাজ করে আসছে। বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ব্যয় এবং নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যের চাপ সামাল দিতে লাখো মানুষ এই সহায়তার ওপর নির্ভর করেন। তবে নতুন নিয়মে বলা হয়েছে, নির্ভরশীল সন্তান ছাড়া কর্মক্ষম প্রাপ্তবয়স্কদের নিয়মিত চাকরি, প্রশিক্ষণ বা অনুমোদিত স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে যুক্ত থাকতে হবে।
সরকারের দাবি, এই পরিবর্তনের লক্ষ্য মানুষকে কর্মসংস্থানের আওতায় আনা এবং আত্মনির্ভরশীল হতে উৎসাহ দেওয়া। কিন্তু সামাজিক সংগঠন ও অধিকারকর্মীরা বলছেন, বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা না করেই কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে।
তাদের মতে, যারা অনিয়মিত বা খণ্ডকালীন কাজ করেন, কিংবা দীর্ঘদিন ধরেও স্থায়ী চাকরি পাচ্ছেন না, তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। অনেকের আয় এত কম যে চাকরি থাকা সত্ত্বেও খাদ্য সহায়তা ছাড়া চলা কঠিন হয়ে পড়ে।
নিউইয়র্কের মেয়র Zohran Mamdani এই নীতির সমালোচনা করে বলেছেন, “মানুষকে পর্যাপ্ত কাজের সুযোগ না দিয়ে খাদ্য সহায়তায় কড়াকড়ি বাড়ালে ক্ষুধা ও দুর্ভোগই বাড়বে।” তার মতে, বর্তমান জীবনযাত্রার ব্যয় এত বেড়েছে যে শুধুমাত্র উপার্জনের ওপর নির্ভর করে টিকে থাকা অনেক পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
সিটি প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, খাদ্য সহায়তা পাওয়া অধিকাংশ মানুষ কোনো না কোনো আয়মূলক কাজে যুক্ত। কিন্তু কম মজুরি, অস্থায়ী চাকরি এবং উচ্চ ব্যয়ের কারণে তারা এখনো সরকারি সহায়তার প্রয়োজন অনুভব করেন।
নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর অনেক মানুষ নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। বিভিন্ন সামাজিক সেবা বিভাগ, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটি সংগঠন মানুষকে সহায়তা করতে সচেতনতামূলক প্রচার চালাচ্ছে এবং সরাসরি যোগাযোগ করছে।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় যেভাবে বেড়েছে, তাতে খাদ্য সহায়তা কমে গেলে নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর সংকট আরও বাড়বে। বিশেষ করে অভিবাসী পরিবার, গৃহহীন ব্যক্তি এবং অস্থায়ী কর্মসংস্থানের ওপর নির্ভরশীল মানুষ সবচেয়ে বেশি চাপে পড়তে পারেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। কেউ মনে করছেন কর্মক্ষম মানুষকে কাজের আওতায় আনার উদ্যোগ ইতিবাচক হতে পারে। আবার অনেকে বলছেন, পর্যাপ্ত চাকরির সুযোগ ও ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত না করে এমন কঠোর শর্ত আরোপ নতুন সামাজিক সংকট তৈরি করতে পারে।