সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

রাজনীতি
৩:৫৭ পিএম, ১৫ আগস্ট ২০২৬

বিদ্যুৎ সংকট: প্রধানমন্ত্রীর ‘চ্যালেঞ্জ’ গ্রহণ করে হাসনাতের ৪ প্রস্তাব

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া ছয় মাসের চ্যালেঞ্জ গ্রহণের কথা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সংকট মোকাবিলায় চারটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব তুলে ধরেছেন তিনি। শনিবার (১৫ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে হাসনাত বলেন, জ্বালানি সংকট সমাধানের পরিকল্পনা বিরোধী দলের কাছে আগেই রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সেই […]

বিদ্যুৎ সংকট: প্রধানমন্ত্রীর ‘চ্যালেঞ্জ’ গ্রহণ করে হাসনাতের ৪ প্রস্তাব

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৪ মিনিটে পড়ুন |

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া ছয় মাসের চ্যালেঞ্জ গ্রহণের কথা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সংকট মোকাবিলায় চারটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব তুলে ধরেছেন তিনি।

শনিবার (১৫ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে হাসনাত বলেন, জ্বালানি সংকট সমাধানের পরিকল্পনা বিরোধী দলের কাছে আগেই রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সেই প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

হাসনাতের ভাষ্য অনুযায়ী, এনসিপির আহ্বায়ক, সংসদ সদস্য ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় ইতোমধ্যে ৩০ দিনের জন্য পাঁচটি, ৬ থেকে ১৮ মাসের জন্য ছয়টি এবং দীর্ঘমেয়াদে চারটিসহ মোট ১৫টি প্রস্তাব দিয়েছেন। এসব প্রস্তাব সরকার গুরুত্ব দিয়ে দেখেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর ছয় মাসের চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে হাসনাত বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলকে বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানের পরিকল্পনা প্রদানের জন্য ছয় মাসের আলটিমেটাম দিয়ে চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন। আমরা চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করলাম এবং সমাধান পরিকল্পনা প্রস্তাব করছি।’

তিনি দাবি করেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে কোথায় ভুল সিদ্ধান্ত হয়েছে, তা বিরোধী দলের পক্ষ থেকে ধাপে ধাপে তুলে ধরা হয়েছে। ভর্তুকি নীতি, ফুয়েল প্ল্যান, কন্টিনজেন্সি প্ল্যান ও ডিজাস্টার রিকভারি প্ল্যান নিয়েও সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। নাগরিক সমাজ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর মতামতও বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে বলে জানান তিনি।

সরকারের নীতিনির্ধারণী দলের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন

হাসনাত আবদুল্লাহ অভিযোগ করেন, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারী মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ৬২ জনের সভাসদ থাকলেও তাদের কেউ বিরোধী দলের প্রস্তাব বা নাগরিক সমাজের মতামত যথাযথভাবে পর্যালোচনা করেননি।

তার মতে, বিষয়টি এখন শুধু নীতিগত সিদ্ধান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; সরকারের নীতিনির্ধারণী দলের কার্যকারিতা ও সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে এনসিপির ১৫ দফা প্রস্তাব পর্যালোচনার পাশাপাশি বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে আলোচনার জন্য বিশেষ সংসদীয় অধিবেশন আহ্বানের দাবিও বিবেচনা করার আহ্বান জানান।

‘ফুয়েল ও কন্টিনজেন্সি প্ল্যান নেই’

বর্তমান প্রশাসনে ব্যাপক দলীয় পদায়নের কারণে প্রাতিষ্ঠানিক অভিজ্ঞতা বা ‘ইনস্টিটিউশনাল মেমরি’ দুর্বল হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন হাসনাত। এর ফলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে কার্যকর ফুয়েল প্ল্যান, কন্টিনজেন্সি প্ল্যান এবং ডিজাস্টার রিকভারি প্ল্যান নেই বলে দাবি করেন তিনি।

হাসনাত বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত জায়গায় ভর্তুকি কমানো হলেও ক্যাপাসিটি চার্জ বহাল রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সচিবালয়ে নতুন ও অনভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

মহেশখালী এফএসআরইউতে আগুন লাগার ঘটনায় রক্ষণাবেক্ষণে কোনো ত্রুটি ছিল কি না, সে বিষয়ে স্বাধীন তদন্ত প্রতিবেদন এখনো প্রকাশ করা হয়নি বলেও দাবি করেন এনসিপির এই নেতা।

মার্চেন্ট পাওয়ার পলিসি বাস্তবায়নের দাবি

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি কেনার ক্ষেত্রে ডলার সংকট এবং বকেয়া পরিশোধের সমস্যার কথা সরকার বললেও বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে প্রশ্ন তোলেন হাসনাত।

তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অনুমোদিত ‘মার্চেন্ট পাওয়ার পলিসি ২০২৫’ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান। তাঁর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই ব্যবস্থায় বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদকরা সরাসরি বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কাছে বিদ্যুৎ বিক্রি করতে পারবে। ক্রেতা ও বিক্রেতা নিজেদের মধ্যে দাম নির্ধারণ করবে এবং বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) বিষয়টি অবহিত থাকবে। অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা যাবে।

হাসনাতের দাবি, এ ব্যবস্থায় রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের প্রয়োজন হবে না। তিনি বলেন, চুক্তির কাঠামো ও হুইলিং চার্জ চূড়ান্ত করাই মূলত বাকি এবং প্রশাসনিকভাবে এটি দ্রুত করা সম্ভব।

ছয় মাসের সময় সরকারের জন্যই

হাসনাত বলেন, প্রধানমন্ত্রী চ্যালেঞ্জ দেওয়ার আগেই বিরোধী দল সংকট সমাধানের প্রস্তাব দিয়েছে। এখন ছয় মাসের সময়সীমা মেনে নিলেও এর দায় সরকারের ওপরই থাকবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তার ভাষায়, মার্চেন্ট পাওয়ার পলিসি বাস্তবায়নে যদি ছয় মাসের বেশি সময় লাগে, তাহলে সেটিকে শুধু নীতিগত সমস্যা হিসেবে দেখা যাবে না; বরং তা সরকারের সক্ষমতার ব্যর্থতা হিসেবে বিবেচিত হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রমাণিতভাবে ব্যর্থ মন্ত্রী বা অযোগ্য ব্যক্তিদের দিয়ে কৌশলগত খাতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে সেটিকে পরিকল্পনা হিসেবে উপস্থাপন করা যায় না।

‘সরকারকেই জবাবদিহি করতে হবে’

হাসনাতের মতে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলকে চ্যালেঞ্জ না দিয়ে সরকারের কাজের জন্য জনগণের কাছে জবাবদিহি করবেন।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, সরকার ছয় মাস ক্ষমতায় থাকার পরও দেশে কেন এত বেশি লোডশেডিং হচ্ছে এবং কেন বিদ্যুৎ সংকট এত তীব্র আকার ধারণ করেছে।

সবশেষে হাসনাত বলেন, বিদ্যুৎ সংকট সমাধানের প্রস্তাব বিরোধী দলের হাতে রয়েছে, কিন্তু বাস্তবায়নের ক্ষমতা সরকারের হাতে। ছয় মাস পর জনগণ জানতে চাইবে—সমাধানের অভাব ছিল, নাকি তা বাস্তবায়নের সক্ষমতার অভাবেই দেশ অন্ধকারে ছিল।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ