সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

রাজনীতি
১২:৪৩ পিএম, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিএনপিকে ‘চাঁদাবাজ দল’ হিসেবে ট্যাগ করার চেষ্টা হচ্ছে: তথ্য উপদেষ্টা

সাম্প্রতিক কয়েকটি হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে অপতথ্য ছড়িয়ে বিএনপির সঙ্গে চাঁদাবাজির একটি ‘বয়ান’ তৈরির চেষ্টা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। জাহেদ উর রহমান বলেন, কোনো ঘটনার পূর্ণাঙ্গ […]

বিএনপিকে ‘চাঁদাবাজ দল’ হিসেবে ট্যাগ করার চেষ্টা হচ্ছে: তথ্য উপদেষ্টা

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৪ মিনিটে পড়ুন |

সাম্প্রতিক কয়েকটি হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে অপতথ্য ছড়িয়ে বিএনপির সঙ্গে চাঁদাবাজির একটি ‘বয়ান’ তৈরির চেষ্টা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

জাহেদ উর রহমান বলেন, কোনো ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তথ্য সামনে আসার আগেই রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তিকে দায়ী করে প্রচার চালানো হলে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। পরে নতুন তথ্য সামনে এসে আগের বক্তব্যের সঙ্গে অসঙ্গতি দেখা দিলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রথম অভিযোগের প্রভাব থেকে যায়।

কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, হামলার শিকার হওয়ায় সালমান মুক্তাদিরের প্রতি সরকারের সহানুভূতি রয়েছে। তবে ঘটনার পরপরই চাঁদাবাজি এবং বিএনপির সংশ্লিষ্টতার যে অভিযোগ সামনে এসেছিল, পরে সালমান তার বক্তব্যের কিছু অংশ সংশোধন করেছেন।

তিনি বলেন, সালমানের প্রতিষ্ঠানে হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তবে কোনো জনপ্রিয় ব্যক্তি অভিযোগ করলে তার বক্তব্যের সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাব অনেক বেশি হয়। তাই এমন অভিযোগের ক্ষেত্রে তথ্য যাচাই করে দায়িত্বশীলভাবে প্রতিক্রিয়া জানানো প্রয়োজন।

জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বক্তব্যের প্রসঙ্গও তোলেন জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, সালমান মুক্তাদিরের প্রাথমিক বক্তব্যের ভিত্তিতে কেউ কেউ সরকার ও সরকারি দলকে দায়ী করে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন। পরে নতুন তথ্য সামনে এলেও সেসব বক্তব্যের অনেকগুলো সংশোধন বা প্রত্যাহার করা হয়নি।

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে কেউ প্রতিক্রিয়া জানাতে পারেন। কিন্তু পরে সেই তথ্য ভুল বা অসম্পূর্ণ বলে প্রতীয়মান হলে নিজের অবস্থান সংশোধন করাও দায়িত্বশীল আচরণের অংশ।

এনসিপির কয়েকজন নেতার বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ঘটনার পর বিএনপি, দলটির নেতৃত্ব এবং সরকারকে লক্ষ্য করে আক্রমণাত্মক বক্তব্য দেওয়া হয়েছিল। নতুন তথ্য সামনে আসার পরও সেসব বক্তব্যের অনেকগুলো সংশোধন করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকারকে সমালোচনা করার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। তবে সে জন্য অপতথ্যের প্রয়োজন নেই। কোনো রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে যাচাই না করা তথ্যের ভিত্তিতে স্থায়ী ‘ট্যাগ’ তৈরি করা উচিত নয়।

‘অপতথ্য এখন বড় সংকট’

অপতথ্য বা ডিসইনফরমেশনকে বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী বড় সংকট হিসেবে উল্লেখ করেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেন, এটি মোকাবিলায় আইনি ব্যবস্থার পাশাপাশি নাগরিক, রাজনৈতিক দল এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।

তার ভাষায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি অসম্পূর্ণ বা ভুল তথ্য খুব অল্প সময়ে বিপুলসংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছে যেতে পারে। পরে সংশোধিত তথ্য প্রকাশ হলেও প্রথম তথ্যটির প্রভাব অনেক সময় থেকে যায়।

সাইবার সুরক্ষাসংক্রান্ত আইনি কাঠামো নিয়ে চলমান আলোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অপতথ্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হলে কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য আইনি কাঠামোর মধ্য দিয়েই সরকারকে এগোতে হবে। হঠাৎ কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে আইনগত প্রক্রিয়ায় কাজ করার কথা জানান তিনি।

হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় তদন্তের কথা

সাম্প্রতিক হামলা, ভাঙচুর এবং পুলিশের উপস্থিতিতে ঘটে যাওয়া কয়েকটি ঘটনা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, নাগরিকদের উদ্বেগ বা অসন্তোষকে সরকার ছোট করে দেখছে না। মানুষের ধারণা বা ‘পারসেপশন’ও গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তবে বর্তমান পরিস্থিতিকে সামগ্রিকভাবে ‘নৈরাজ্য’ বলার সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশ করেন তিনি। তার মতে, অপরাধের ধরনভেদে কোথাও অপরাধ বেড়েছে, আবার কোথাও কমেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে কোনো সমস্যা নেই—সরকার এমন দাবি করছে না। কোথাও দায়িত্বে অবহেলা বা গাফিলতি পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

রাড্ডা ক্লিনিকসহ সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায় ক্ষমতাসীন দলের কারও সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অভিযোগ থাকলে তা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করতে হবে। হামলা বা ভাঙচুরে সরাসরি জড়িত ব্যক্তিদের পাশাপাশি নির্দেশদাতা বা ইন্ধনদাতাদের পরিচয় তদন্তে বেরিয়ে এলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায়ও সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে বলে জানান তথ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেন, কোনো নাগরিকের প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর বা তার ওপর হামলা ঠেকানো রাষ্ট্রের দায়িত্ব। ঘটনায় সরাসরি অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের পাশাপাশি নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদেরও তদন্তের আওতায় আনা হবে।

জাহেদ উর রহমান বলেন, তদন্তে ক্ষমতাসীন দলের কোনো ব্যক্তি, পুলিশ সদস্য বা অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে দলীয় পরিচয় বিবেচনা না করে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ