রাজশাহীর পদ্মা সরকারি কলেজে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনার জেরে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ‘কুত্তার মতো পিটিয়ে’ রাজশাহী ছাড়া করার হুমকি দিয়েছেন রাজশাহী মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইমরান নাজির। তার এই বক্তব্যের একটি ভিডিও বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজশাহী মহানগর শাখার উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল […]
ছবি: সংগৃহীত
রাজশাহীর পদ্মা সরকারি কলেজে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনার জেরে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ‘কুত্তার মতো পিটিয়ে’ রাজশাহী ছাড়া করার হুমকি দিয়েছেন রাজশাহী মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইমরান নাজির। তার এই বক্তব্যের একটি ভিডিও বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজশাহী মহানগর শাখার উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। নগরের সাহেব বাজার থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে সোনাদিঘীর মোড় এলাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সভাপতির বক্তব্য দেন ইমরান নাজির।
সমাবেশে ইমরান নাজির বলেন, ‘আমরা ছাত্রদলের বন্ধুদের বলছি, আমরা ধৈর্যের সীমান্তের একেবারে শেষ পর্যায়ে আছি। যদি আমাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যায়, প্রত্যেকটা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের কুত্তার মতো পিটিয়ে রাজশাহী ছাড়া করব।’
তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ছাত্রশিবিরের কোনো নেতাকর্মী আহত হলে ছাত্রদলের কোনো নেতার ‘পিঠের চামড়া’ রাখা হবে না। এ সময় তিনি বলেন, ‘ছাত্রশিবির কোনো ভেসে আসা সংগঠন না, ছাত্রশিবির রাজপথে জীবন দেওয়া সংগঠন। শহীদ আলীরা প্রমাণ করেছে, রাজপথে কীভাবে জীবন দিতে হয়।’
ইমরান নাজির আরও বলেন, ‘আমরা জীবন দেবো, কিন্তু আমার ছাত্রসমাজের বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কোনো নেতাকর্মীর ওপর যদি কোনো হামলা হয়, তার দাঁতভাঙা জবাব আমি দেবো, ইনশা আল্লাহ।’
ইমরান নাজির ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের সদস্যও। মঙ্গলবারের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন রাজশাহী মহানগর শাখার সাবেক সভাপতি এ কে এম সারওয়ার জাহান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি ও সাবেক কেন্দ্রীয় এইচআরডি সম্পাদক আবদুর রহিম, রাজশাহী মহানগর শাখার সাবেক সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং খায়রুল ইসলাম।
এর আগে মঙ্গলবার সকালে পদ্মা সরকারি কলেজে ব্যানার ছেঁড়াকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ছাত্রশিবিরের তিনজন ও ছাত্রদলের দুজনসহ মোট পাঁচজন আহত হন। পরে আহতদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কলেজে ভর্তি কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে ইসলামী ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে একটি হেল্প ডেস্ক স্থাপন করা হয়েছিল। সেখানে ব্যানার টাঙানোকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাগবিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয়।
শিবিরের বিক্ষোভ সমাবেশের পর রাতে ছাত্রদলের পক্ষ থেকেও পাল্টা হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। রাজশাহী মহানগর ছাত্রদলের সদস্যসচিব এমদাদুল হক লিমন শহীদ মিনার এলাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ইমরান নাজিরের বক্তব্যের জবাব দেন।
ছাত্রদলকে ‘কুকুরের মতো পিটিয়ে’ রাজশাহী থেকে বের করে দেওয়ার কথা বলা ছাত্রশিবিরের সভাপতির মুখে শোভা পায় না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এমদাদুল হক বলেন, ‘ইমরান নাজিরকে হুঁশিয়ারি করে বলে দিতে চাই, ইমরান নাজির সাহেব, আপনার বাসা কুমিল্লা। আপনি হয়েছেন পিআর পদ্ধতিতে নেতা। রাজশাহীতে আমাদের নাড়ি পোঁতা, এই রাজশাহীতেই হচ্ছে আমাদের জন্ম, পৈতৃক ভিটার ওপর বসবাস করি। যখন লাগবেন, তখন টের পাবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘যদি ছাত্রদল রাজপথে নামে, ছাত্রশিবির কেন, ওই রাজাকারের সংগঠন রাজশাহীতে পা ফেলারও জায়গা পাবে না।’
পদ্মা সরকারি কলেজের সংঘর্ষের ঘটনাতেও ছাত্রদলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়। এমদাদুল হকের দাবি, ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বহিরাগতরা যোগ দিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। তার ভাষ্য, ছাত্রদল হামলার ‘অল্প পরিমাণ প্রতিরোধ’ করেছে।
পদ্মা সরকারি কলেজে ভর্তি কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিরোধ পরবর্তী সময়ে দুই ছাত্রসংগঠনের সংঘর্ষে রূপ নেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে দুই পক্ষের নেতাদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও হুমকিতে রাজশাহীতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে তাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ছাত্রদলের পক্ষ থেকেও পাল্টা প্রতিরোধের কথা জানানো হয়েছে। ফলে কলেজের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।