থাইল্যান্ডের পাতায়ায় আসছে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর বিশাল যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। জাহাজটিতে প্রায় ৫ হাজার মার্কিন সেনা রয়েছেন। টানা ২০০ দিনেরও বেশি সময় সাগরে কাটানোর পর বিশ্রামের জন্য তারা পাতায়ার তীরে নামবেন। দীর্ঘ সময় সমুদ্রে অবস্থানের পর মার্কিন সেনাদের এই সফরকে ঘিরে পাতায়ায় একদিকে যেমন স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে নিরাপত্তা ও সামাজিক নানা […]
ছবি: সংগৃহীত
থাইল্যান্ডের পাতায়ায় আসছে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর বিশাল যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। জাহাজটিতে প্রায় ৫ হাজার মার্কিন সেনা রয়েছেন। টানা ২০০ দিনেরও বেশি সময় সাগরে কাটানোর পর বিশ্রামের জন্য তারা পাতায়ার তীরে নামবেন।
দীর্ঘ সময় সমুদ্রে অবস্থানের পর মার্কিন সেনাদের এই সফরকে ঘিরে পাতায়ায় একদিকে যেমন স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে নিরাপত্তা ও সামাজিক নানা বিষয় নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, বিপুলসংখ্যক মার্কিন সেনার আগমনে শহরের পর্যটন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে সাময়িকভাবে গতি ফিরতে পারে। সাম্প্রতিক মন্দার কারণে পাতায়ার অনেক হোটেল, দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে আগের তুলনায় কার্যক্রম কমে গিয়েছিল।
পাতায়ার মেয়রের হিসাব অনুযায়ী, প্রতিজন মার্কিন সেনা প্রতিদিন ৩০ থেকে ৯১ ডলার পর্যন্ত ব্যয় করতে পারেন। ফলে কয়েক হাজার সেনার অবস্থান স্থানীয় অর্থনীতিতে সাময়িকভাবে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে একই সঙ্গে শহরের প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে উদ্বেগও রয়েছে। এত বিপুলসংখ্যক সেনা একসঙ্গে শহরে এলে যৌন নিপীড়ন ও বিভিন্ন ধরনের রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
থাইল্যান্ডে পতিতাবৃত্তি আইনত নিষিদ্ধ হলেও পাতায়ায় এ ধরনের কর্মকাণ্ড তুলনামূলকভাবে প্রকাশ্য। মার্কিন সেনাদের শহরে নামার আগেই স্থানীয় পুলিশ নাইটলাইফ এলাকা ও সৈকতসংলগ্ন অঞ্চলে টহল জোরদার করেছে।
ইতোমধ্যে পুলিশের চালানো অভিযানে প্রায় ৫০ জনকে আটক করা হয়েছে। সেনাদের আগমনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আরও নজরদারি ও অভিযান চালানো হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন গত বছরের নভেম্বরে যাত্রা শুরু করেছিল। এর পর দীর্ঘ সময় ধরে জাহাজটি সমুদ্রে অবস্থান করে। এ সময় মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সংঘাতের কারণে জাহাজটিকে ওই অঞ্চলে অবস্থান করতে হয়েছিল।
দীর্ঘদিন ধরে সমুদ্রে থাকার কারণে জাহাজের সেনাদের মধ্যে মানসিক চাপও বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা। এ অবস্থায় পাতায়ায় অবস্থান ও বিশ্রামের সুযোগ তাদের জন্য কিছুটা স্বস্তি এনে দিতে পারে।
মার্কিন সেনাদের এই সফরকে কেন্দ্র করে পাতায়ার ব্যবসা ও পর্যটন খাতে নতুন করে কর্মচাঞ্চল্য তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও একই সঙ্গে নিরাপত্তা ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষও প্রস্তুতি নিচ্ছে।