সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

রাজনীতি
৩:৪১ পিএম, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দুদক কর্মকর্তার বক্তব্য প্রত্যাহারে আসিফ মাহমুদের আইনি নোটিশ

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জনসংযোগ কর্মকর্তা ও উপপরিচালক আখতারুল ইসলামের দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। গত বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জনির মাধ্যমে এ নোটিশ পাঠানো হয়। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে এনসিপি। নোটিশে […]

দুদক কর্মকর্তার বক্তব্য প্রত্যাহারে আসিফ মাহমুদের আইনি নোটিশ

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জনসংযোগ কর্মকর্তা ও উপপরিচালক আখতারুল ইসলামের দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

গত বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জনির মাধ্যমে এ নোটিশ পাঠানো হয়। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে এনসিপি।

নোটিশে বলা হয়েছে, গত ২ সেপ্টেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আখতারুল ইসলাম আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে বদলি, নিয়োগ ও পদোন্নতি সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। এরপর বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়।

আসিফ মাহমুদের দাবি, কোনো তদন্ত বা সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়াই দুদকের কর্মকর্তার এমন বক্তব্যের কারণে তাকে ঘিরে ব্যাপক ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ শুরু হয়। এতে অভিযোগগুলো ইতোমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে বলে জনমনে ধারণা তৈরি হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়, যা তার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত করেছে বলে তিনি মনে করেন।

পরে বক্তব্যকে ভুলবশত দেওয়া বলে জানান কর্মকর্তা

নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, পরে সাংবাদিকদের দুদক বিটের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে আখতারুল ইসলাম জানান, তার দেওয়া বক্তব্যটি ভুলবশত হয়েছে। সংবাদ প্রচারের সময় ‘প্রাথমিক সত্যতা’ কথাটি বাদ দেওয়ার জন্যও তিনি সাংবাদিকদের অনুরোধ করেন।

তবে প্রকাশ্য সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার বা সংশোধন করা হয়নি বলে নোটিশে দাবি করা হয়েছে। ফলে ওই বক্তব্যের ভিত্তিতে তৈরি হওয়া সংবাদ ও জনমনে নেতিবাচক ধারণা অব্যাহত রয়েছে বলে এতে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগের তথ্য নিয়েও আপত্তি

আইনি নোটিশে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের তথ্যগত অসঙ্গতিও তুলে ধরা হয়েছে।

নোটিশ অনুযায়ী, ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিলের অভিযোগ করা হলেও বাস্তবে ১১২ জন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিল করা হয়েছিল। প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনালের আদেশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ১৫০ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে পদোন্নতির ঘটনায় আসিফ মাহমুদকে জড়ানোর অভিযোগও ভিত্তিহীন বলে দাবি করা হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়, আসিফ মাহমুদ উপদেষ্টার পদ থেকে ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ পদত্যাগ করেন। অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট পদোন্নতির ঘটনা ঘটে ১১ মে ২০২৬। অর্থাৎ, পদোন্নতির ঘটনাটি তার পদত্যাগের প্রায় পাঁচ মাস পর এবং বিএনপি সরকার গঠনের তিন মাসের মধ্যে ঘটে।

১৫ দিনের মধ্যে বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি

আইনি নোটিশে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তাকে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তার বক্তব্য ১৫ দিনের মধ্যে নিঃশর্তভাবে প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাচাই করা ও প্রমাণসমর্থিত তথ্য ছাড়া এ ধরনের বক্তব্য না দেওয়ার জন্যও বলা হয়েছে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আখতারুল ইসলামের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৫০০ ধারাসহ প্রচলিত আইনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে নোটিশে সতর্ক করা হয়েছে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ