সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

রাজনীতি
৪:১৮ পিএম, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সংসদে রুমিন ফারহানাকে গালাগালের অভিযোগ, তুমুল হট্টগোল

বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদে উত্তেজনা ও হট্টগোলের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার ‘ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) বিল’-এর ওপর আলোচনার সময় সরকারি দলের সদস্যদের তুমুল চিৎকারে কিছু সময়ের জন্য অধিবেশনের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। এ সময় রুমিন ফারহানা অভিযোগ করেন, বক্তব্য দেওয়ার সময় সরকারি দলের কয়েকজন সদস্য তাকে উদ্দেশ […]

সংসদে রুমিন ফারহানাকে গালাগালের অভিযোগ, তুমুল হট্টগোল

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদে উত্তেজনা ও হট্টগোলের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার ‘ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) বিল’-এর ওপর আলোচনার সময় সরকারি দলের সদস্যদের তুমুল চিৎকারে কিছু সময়ের জন্য অধিবেশনের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়।

এ সময় রুমিন ফারহানা অভিযোগ করেন, বক্তব্য দেওয়ার সময় সরকারি দলের কয়েকজন সদস্য তাকে উদ্দেশ করে অশালীন ভাষায় গালাগাল করেছেন।

বিলটির ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে রুমিন ফারহানা বিএনপি সরকারের বিভিন্ন সময়ের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, প্রত্যেক সরকারেরই একটি নির্দিষ্ট চরিত্র থাকে। বিএনপি ক্ষমতায় এলে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট কিংবা সারের সংকট থাকবে না, এমনটা হওয়ার সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিএনপি সরকারের আমলে বাংলাদেশ দুর্নীতিতে শীর্ষে ছিল এবং ঋণখেলাপির পরিমাণ ৬ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। বর্তমান সংসদকে ‘অসহিষ্ণু’ আখ্যা দিয়ে তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার সংসদের আচরণের সঙ্গেও তুলনা করেন।

রুমিন ফারহানা দাবি করেন, বর্তমান সংসদের অধিকাংশ সদস্যই ঋণখেলাপি এবং নির্বাচনের আগে উচ্চ আদালতে রিট করে তারা নিজেদের নাম ঋণখেলাপির তালিকা থেকে সরিয়ে নেন।

তার এই বক্তব্যের পর সরকারি দলের সদস্যরা সমস্বরে চিৎকার ও হট্টগোল শুরু করেন। একপর্যায়ে রুমিন ফারহানার মাইক বন্ধ হয়ে গেলেও তিনি দাঁড়িয়ে কথা বলতে থাকেন। তখন তিনি স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানান, তাকে অশালীন ভাষায় গালি দেওয়া হচ্ছে।

এ সময় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদও দাঁড়িয়ে এর প্রতিবাদ করেন। তিনি বলেন, একজন সংসদ সদস্যকে এভাবে গালাগাল করা উচিত নয়।

উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সভাপতির আসনে থাকা ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল সংসদ সদস্যদের শান্ত হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সংসদে প্রত্যেক সদস্যের নিজের বক্তব্য তুলে ধরার স্বাধীনতা রয়েছে। কোনো বক্তব্য অসংসদীয় হলে তা কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার এখতিয়ার স্পিকারের রয়েছে।

ডেপুটি স্পিকার একই সঙ্গে সংসদের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিজ দলের সদস্যদের নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য চিফ হুইপকে তার দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেন।

পরে আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, কোনো সদস্যের বক্তব্য অসংসদীয় হলে স্পিকার প্রয়োজনীয় রুলিং দিতে পারেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীও চাইলে বক্তব্যের জবাব দিতে পারেন।

চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, বর্তমান সরকার একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছে। সংসদ সদস্যদের বক্তব্য দেওয়ার সময় সংযত থাকার প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

পরে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সংসদে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, মূলত অর্থনৈতিক সংস্কারসংক্রান্ত একটি বিল নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা থাকলেও সেখানে সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ে বিতর্ক তৈরি করা দুঃখজনক।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ