দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ মাস চিকিৎসা শেষে জাতীয় সংসদে ফিরে বক্তব্য দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস। বক্তব্যের শেষ দিকে তিনি সংসদ সদস্য ও দেশবাসীর কাছে নিজের জন্য দোয়া চেয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদে একটি সিদ্ধান্ত প্রস্তাবের ওপর বক্তব্য দেন ঢাকা-৮ আসনের এই সংসদ সদস্য। এ […]
ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ মাস চিকিৎসা শেষে জাতীয় সংসদে ফিরে বক্তব্য দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস। বক্তব্যের শেষ দিকে তিনি সংসদ সদস্য ও দেশবাসীর কাছে নিজের জন্য দোয়া চেয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদে একটি সিদ্ধান্ত প্রস্তাবের ওপর বক্তব্য দেন ঢাকা-৮ আসনের এই সংসদ সদস্য। এ সময় তিনি হুইলচেয়ারে বসে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমানউল্লাহ আমানের পাশে অবস্থান করেন।
বক্তব্যের একপর্যায়ে মির্জা আব্বাস বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং এখনও পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠেননি। তার চিকিৎসা চলমান থাকলেও সহকর্মীদের ভালোবাসা ও আবেগের কারণে সংসদ অধিবেশনে উপস্থিত হয়েছেন বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, নির্বাচনের পর এক সভায় গুরুতর স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে তাকে দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। এই কঠিন সময়ে যারা তার সুস্থতার জন্য দোয়া করেছেন, খোঁজ নিয়েছেন এবং পাশে থেকেছেন, তাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
মির্জা আব্বাস আরও বলেন, অসুস্থতার সময় রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় নিয়মিত তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিয়েছে। এ জন্য তিনি তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম তার অসুস্থতার সময় দেখতে যাওয়ায় সেটিকেও মানবিক ও আন্তরিকতার দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
সংসদে ফিরে আসার দিনটিকে নিজের রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম আবেগঘন ও স্মরণীয় দিন হিসেবে উল্লেখ করেন মির্জা আব্বাস। তিনি বলেন, ২০০৬ সালের পর আবারও জাতীয় সংসদের এই কক্ষে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পাওয়া তার জন্য আনন্দ ও গর্বের বিষয়।
তিনি বলেন, সংসদ শুধু বিতর্কের জায়গা নয়, এটি মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। নির্বাচনি এলাকার মানুষ এবং দেশের জনগণের জন্য দায়িত্ব পালনের সুযোগ যেন পান—এ জন্য আল্লাহর কাছে সুস্থতা কামনা করেন তিনি।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে মির্জা আব্বাস বলেন, ২০০৬ সালের পর আবার সংসদে ফিরে তিনি মানুষের কাছে, মানুষের জন্য এবং বাংলাদেশের জন্য কাজ করতে চান।
এরপর আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আপনারা দোয়া করবেন, আমি যাতে জীবনের বাকি সময়টুকু দেশ ও জাতির জন্য কিছু করতে পারি।’
চলতি বছরের ১১ মার্চ রাজধানীর শাহজাহানপুরের বাসায় হঠাৎ জ্ঞান হারানোর পর মির্জা আব্বাসকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন নিউরো বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিক্যাল টিম তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করে।
পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ মার্চ তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরের জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রায় এক মাস চিকিৎসার পর ১৪ এপ্রিল চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে মালয়েশিয়ার প্রিন্স কোর্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে দীর্ঘ সময় ফিজিওথেরাপি নেন তিনি।
সাড়ে পাঁচ মাস চিকিৎসা শেষে গত ২ সেপ্টেম্বর দেশে ফেরেন মির্জা আব্বাস। পরদিনই তিনি জাতীয় সংসদের অধিবেশনে যোগ দেন।
বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টা ৫০ মিনিটে সংসদে পৌঁছালে স্পিকার তাকে স্বাগত জানান। এর আগে সকালে নিজের কার্যালয়ে গিয়ে দাফতরিক কাজও শুরু করেন তিনি। কয়েকটি নথি পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে নতুন দায়িত্বের কার্যক্রম শুরু করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে সবার সহযোগিতা কামনা করেন মির্জা আব্বাস।
সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন