সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

NYC
৩:৪৭ পিএম, ৩ জুন ২০২৬

ফুটবলের রাজধানী এখন নিউইয়র্ক

বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬ শুরুর আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো জুড়ে শুরু হয়ে গেছে ফুটবল উৎসবের আবহ। তবে আয়োজক শহরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে নিউইয়র্ক। বহুজাতিক সংস্কৃতি, বিশাল প্রবাসী জনগোষ্ঠী আর বিশ্বমানের আয়োজনের কারণে শহরটি এখন কার্যত বিশ্ব ফুটবলের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ম্যানহাটন থেকে কুইন্স, ব্রুকলিন থেকে ব্রঙ্কস—সবখানেই […]

ফুটবলের রাজধানী এখন নিউইয়র্ক

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬ শুরুর আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো জুড়ে শুরু হয়ে গেছে ফুটবল উৎসবের আবহ। তবে আয়োজক শহরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে নিউইয়র্ক। বহুজাতিক সংস্কৃতি, বিশাল প্রবাসী জনগোষ্ঠী আর বিশ্বমানের আয়োজনের কারণে শহরটি এখন কার্যত বিশ্ব ফুটবলের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

ম্যানহাটন থেকে কুইন্স, ব্রুকলিন থেকে ব্রঙ্কস—সবখানেই এখন বিশ্বকাপের রঙ। সাবওয়ে স্টেশন, রাস্তার ডিজিটাল বিলবোর্ড, স্পোর্টস বার, রেস্তোরাঁ, শপিং মল—যেদিকেই চোখ যায়, ফুটবল উন্মাদনার ছাপ স্পষ্ট। বিভিন্ন দেশের জার্সি পরে সমর্থকদের ঘোরাফেরা যেন বিশ্বকাপ শুরুর আগেই শহরটিকে আন্তর্জাতিক মিলনমেলায় বদলে দিয়েছে।

বিশ্বকাপ উপলক্ষে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে নিউজার্সির ইস্ট রাদারফোর্ডে অবস্থিত মেটলাইফ স্টেডিয়ামে। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী টুর্নামেন্ট চলাকালে স্টেডিয়ামটির নাম রাখা হয়েছে “নিউইয়র্ক নিউজার্সি স্টেডিয়াম”। পুরো ভেন্যুতে নতুন ব্র্যান্ডিং, আধুনিক প্রযুক্তি ও দর্শকসেবামূলক নানা পরিবর্তন আনা হয়েছে।

আগামী ১৩ জুন এই স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণীয় ম্যাচ—ব্রাজিল বনাম মরক্কো। ছয় নম্বর শিরোপার স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামছে ব্রাজিল। অন্যদিকে কাতার বিশ্বকাপের চমক মরক্কো এবারও নিজেদের সামর্থ্য দেখাতে প্রস্তুত। আফ্রিকার প্রথম দল হিসেবে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার স্মৃতি এখনও মরক্কোর অনুপ্রেরণা হয়ে আছে।

১৯ জুলাই এই স্টেডিয়ামেই অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপের ফাইনাল। সব মিলিয়ে আটটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ আয়োজন করবে নিউইয়র্ক অঞ্চলের এই ভেন্যু।

বিশ্বকাপকে সামনে রেখে স্টেডিয়ামের মাঠেও বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। কৃত্রিম টার্ফ সরিয়ে সেখানে বসানো হয়েছে বিশেষভাবে প্রস্তুত প্রাকৃতিক ঘাস। নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ট্রাকে করে আনা “তাহোমা ৩১ বারমুডা” ঘাস ব্যবহার করা হয়েছে নতুন মাঠ তৈরিতে। উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও আধুনিক ভ্যাকুয়াম প্রযুক্তির সমন্বয়ে মাঠকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা হয়েছে।

শুধু স্টেডিয়াম নয়, পুরো নিউইয়র্ক শহরজুড়েই চলছে বিশেষ আয়োজন। যেসব দর্শক মাঠে ঢোকার টিকিট পাবেন না, তাদের জন্য বড় পর্দায় খেলা দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিভিন্ন পার্ক ও উন্মুক্ত স্থানে ফ্যান জোন তৈরি করা হয়েছে, যেখানে খেলার পাশাপাশি থাকবে সংগীত, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিনোদন।

বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে কুইন্সের ইউএসটিএ বিলি জিন কিং ন্যাশনাল টেনিস সেন্টারে আয়োজন করা হচ্ছে ১৭ দিনের বিশাল ফ্যান ফেস্ট। সেখানে অংশ নেবেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সংগীতশিল্পীরাও। দর্শকদের যাতায়াত সহজ করতে চালু করা হচ্ছে বিশেষ শাটল সার্ভিস।

এদিকে অংশগ্রহণকারী দলগুলো ইতোমধ্যে নিজ নিজ বেস ক্যাম্পে অনুশীলন শুরু করেছে। আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, ফ্রান্স, জার্মানি, স্পেন ও পর্তুগালের মতো দলগুলো যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রস্তুতি ম্যাচ ও অনুশীলন ঘিরেও সমর্থকদের আগ্রহ তুঙ্গে।

বিশ্ব ফুটবলের চার বড় তারকা—লিওনেল মেসি, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, কিলিয়ান এমবাপ্পে ও নেইমার—দলগুলোর সঙ্গে যোগ দেওয়ার পর বিশ্বকাপ উন্মাদনা আরও বেড়ে গেছে। তাদের অনুশীলন দেখতেও প্রতিদিন ভিড় জমাচ্ছেন সমর্থকেরা।

অর্থনৈতিকভাবেও বিশ্বকাপ নিউইয়র্ক অঞ্চলের জন্য বড় সুযোগ হয়ে উঠছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, এই টুর্নামেন্টকে ঘিরে কয়েক বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক কার্যক্রম তৈরি হবে। হোটেল, পরিবহন, পর্যটন, খাবার ব্যবসা ও খুচরা বাজারে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

বিশ্বকাপের মহাযজ্ঞ শুরু হওয়ার আগেই নিউইয়র্ক যেন নিজেকে প্রস্তুত করে ফেলেছে—বিশ্ব ফুটবলের নতুন উৎসব নগরী হিসেবে।

লেখক : ব্যবস্থাপনা সম্পাদক, আমার দেশ।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ