সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

উত্তর আমেরিকা
৬:০৪ পিএম, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে তৃতীয় দেশে অভিবাসী ফেরত পাঠানোর নীতি ফের চালুর অনুমতি সুপ্রিম কোর্টের

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট তৃতীয় কোনো দেশে অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর নীতি পুনরায় চালুর অনুমতি দিয়েছেন। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) আদালতের দেওয়া আদেশের ফলে ট্রাম্প প্রশাসন আপাতত অভিবাসীদের নিজ দেশের পরিবর্তে অন্য দেশে পাঠাতে পারবে। এই নীতির আওতায় তৃতীয় দেশে পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট অভিবাসীদের সেখানে সম্ভাব্য নির্যাতন, নিপীড়ন বা অন্য কোনো ক্ষতির আশঙ্কা জানানোর সুযোগ না দেওয়ার ব্যবস্থাও […]

যুক্তরাষ্ট্রে তৃতীয় দেশে অভিবাসী ফেরত পাঠানোর নীতি ফের চালুর অনুমতি সুপ্রিম কোর্টের

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট তৃতীয় কোনো দেশে অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর নীতি পুনরায় চালুর অনুমতি দিয়েছেন। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) আদালতের দেওয়া আদেশের ফলে ট্রাম্প প্রশাসন আপাতত অভিবাসীদের নিজ দেশের পরিবর্তে অন্য দেশে পাঠাতে পারবে।

এই নীতির আওতায় তৃতীয় দেশে পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট অভিবাসীদের সেখানে সম্ভাব্য নির্যাতন, নিপীড়ন বা অন্য কোনো ক্ষতির আশঙ্কা জানানোর সুযোগ না দেওয়ার ব্যবস্থাও আপাতত বহাল থাকবে। তবে নীতিটির বৈধতা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে আগামী ডিসেম্বরে পূর্ণাঙ্গ শুনানি হবে।

ট্রাম্প প্রশাসনের দ্রুত অভিবাসী বহিষ্কারের নীতিগুলোর মধ্যে তৃতীয় দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা অন্যতম। প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, নিজ দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব না হলে কিছু অভিবাসীকে এমন তৃতীয় দেশে পাঠানো হয়, যেসব দেশ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গ্রহণ করতে রাজি হয়েছে।

এর আগে বোস্টনভিত্তিক মার্কিন জেলা জজ ব্রায়ান মারফি তৃতীয় দেশে অভিবাসী পাঠানোর এই নীতিকে বেআইনি ঘোষণা করেছিলেন। তাঁর রায়ের ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে মার্কিন বিচার বিভাগ সুপ্রিম কোর্টে জরুরি আবেদন করে। ১৮ সেপ্টেম্বর প্রথম সার্কিট আপিল আদালতও মারফির রায়ের অধিকাংশ বহাল রাখেন।

মারফির রায়ে বলা হয়েছিল, তৃতীয় দেশে পাঠানোর আগে অভিবাসীদের গন্তব্য সম্পর্কে জানানো এবং সেখানে সম্ভাব্য নির্যাতন বা নিপীড়নের আশঙ্কা থাকলে তা জানানোর সুযোগ দিতে হবে। এ নিয়ে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগও ওঠে।

সুপ্রিম কোর্টের নয় বিচারপতির মধ্যে ছয়জন রক্ষণশীল। আদালতের আদেশে তিন উদারপন্থী বিচারপতি—সোনিয়া সোটোমেয়র, এলেনা কাগান ও কেটানজি ব্রাউন জ্যাকসন—স্থগিতাদেশ দেওয়ার বিরোধিতা করেছেন।

মানবাধিকার সংগঠন ও মামলার বাদীপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর এই নীতি চালুর পর ২৯টি দেশে ২৫ হাজারের বেশি অভিবাসীকে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের বড় একটি অংশকে মেক্সিকোতে পাঠানো হয়েছে। দক্ষিণ সুদান, উগান্ডা, লাইবেরিয়া ও মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রসহ আরও কয়েকটি দেশেও অভিবাসীদের পাঠানো হয়েছে।

বাদীপক্ষের আইনজীবীরা আদালতে বলেছেন, তৃতীয় দেশে পাঠানোর পর কিছু অভিবাসীকে আটক, নির্যাতন, যৌন নিপীড়ন ও নিখোঁজ হওয়ার মতো পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়েছে। আদালতের নথিতেও এ ধরনের অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের আদেশে মামলাটির পূর্ণাঙ্গ শুনানি ডিসেম্বর ২০২৬-এর অধিবেশনে করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেখানে তৃতীয় দেশে অভিবাসী পাঠানোর নীতিটি মার্কিন অভিবাসন আইন, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অধিকার এবং নির্যাতনবিরোধী আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা নিয়ে শুনানি হবে।

২০২৫ সালে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ এমন অভিবাসীদের দ্রুত বহিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়ার পর এই আইনি লড়াই শুরু হয়, যাদের বহিষ্কারের আদেশ থাকলেও বিভিন্ন কারণে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব হচ্ছিল না। মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মঙ্গলবারের আদেশ অনুযায়ী প্রশাসন নীতিটি কার্যকর রাখতে পারবে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ