দীর্ঘ ১৬ বছর পর আবারও শুরু হচ্ছে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা। বুধবার সকাল ১০টা থেকে তিন পার্বত্য জেলা ছাড়া দেশের ৬১টি জেলায় একযোগে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম দিনে বাংলা বিষয়ের পরীক্ষা নেওয়া হবে, যা চলবে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর জানিয়েছে, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় রাখা হয়েছে। অধিদপ্তরের তথ্য […]
ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘ ১৬ বছর পর আবারও শুরু হচ্ছে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা। বুধবার সকাল ১০টা থেকে তিন পার্বত্য জেলা ছাড়া দেশের ৬১টি জেলায় একযোগে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম দিনে বাংলা বিষয়ের পরীক্ষা নেওয়া হবে, যা চলবে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর জানিয়েছে, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় রাখা হয়েছে।
অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের সরকারি ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থী এই পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।
সবশেষ ২০০৮ সালে আলাদাভাবে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। পরে ২০০৯ সাল থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে বৃত্তি দেওয়া শুরু হলে এই পৃথক পরীক্ষা বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ বিরতির পর সেটিই আবার চালু হচ্ছে।
পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ১০ দফা বিশেষ নির্দেশনা ও আচরণবিধি জারি করেছে। পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই প্রবেশপত্র সঙ্গে আনতে হবে, অন্যথায় তারা পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে না।
মোবাইল ফোন, ক্যালকুলেটর বা যেকোনো ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস পরীক্ষার হলে আনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। উত্তরপত্রের ওএমআর অংশে নির্ধারিত তথ্যের বাইরে কিছু লেখা যাবে না এবং দায়িত্বরত পরিদর্শকের স্বাক্ষর নিশ্চিত করতে হবে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, পরীক্ষার প্রথম এক ঘণ্টার মধ্যে কোনো শিক্ষার্থী হল ত্যাগ করতে পারবে না। খসড়া কাজের জন্য আলাদা কাগজ ব্যবহার না করে উত্তরপত্রের নির্ধারিত অংশই ব্যবহার করতে হবে।
আচরণবিধিতে হলের ভেতরে কথা বলা, অন্যের উত্তরপত্র দেখা বা দেখানোর মতো কাজ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। উত্তরপত্রের কোনো পৃষ্ঠা নষ্ট বা পরিবর্তন করা যাবে না। পরীক্ষা শেষে দায়িত্বরত শিক্ষকের কাছে উত্তরপত্র জমা দিয়েই কেবল হল ছাড়তে হবে।
প্রকাশিত রুটিন অনুযায়ী, ১৬ এপ্রিল ইংরেজি, ১৭ এপ্রিল প্রাথমিক গণিত এবং ১৮ এপ্রিল বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় ও প্রাথমিক বিজ্ঞান বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
তবে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান—এই তিন পার্বত্য জেলায় পরীক্ষা দুই দিন পরে শুরু হবে। সেখানে ১৭ এপ্রিল গণিত, ১৮ এপ্রিল বিশ্বপরিচয় ও বিজ্ঞান, ১৯ এপ্রিল বাংলা এবং ২০ এপ্রিল ইংরেজি পরীক্ষা নেওয়া হবে।
এবারের নীতিমালায় ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ—এই দুই ক্যাটাগরিতে বৃত্তি দেওয়া হবে। মেধাতালিকায় ছাত্র ও ছাত্রীর সংখ্যা সমান রাখা হবে। মোট বৃত্তির ৮০ শতাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এবং বাকি ২০ শতাংশ বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।
দীর্ঘ বিরতির পর প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।