সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

বাংলাদেশ
৬:১৬ পিএম, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মডেল মসজিদে নতুন পদ ‘খতিব’, বাড়ল ইমাম-মুয়াজ্জিনের সম্মানি

মডেল মসজিদে প্রথমবারের মতো ‘খতিব’ পদ যুক্ত করেছে সরকার। একই সঙ্গে পেশ ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদিমের মাসিক সম্মানিও বাড়ানো হয়েছে। এসব পরিবর্তন এনে ‘মডেল মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা, ২০২৬’ জারি করা হয়েছে। নতুন নীতিমালায় মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটির কাঠামো, জনবল নিয়োগ, দায়িত্ব-কর্তব্য, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, ছুটি, সঞ্চয় এবং চাকরি শেষে সুবিধার ক্ষেত্রেও বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। গত […]

মডেল মসজিদে নতুন পদ ‘খতিব’, বাড়ল ইমাম-মুয়াজ্জিনের সম্মানি

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৪ মিনিটে পড়ুন |

মডেল মসজিদে প্রথমবারের মতো ‘খতিব’ পদ যুক্ত করেছে সরকার। একই সঙ্গে পেশ ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদিমের মাসিক সম্মানিও বাড়ানো হয়েছে। এসব পরিবর্তন এনে ‘মডেল মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা, ২০২৬’ জারি করা হয়েছে।

নতুন নীতিমালায় মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটির কাঠামো, জনবল নিয়োগ, দায়িত্ব-কর্তব্য, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, ছুটি, সঞ্চয় এবং চাকরি শেষে সুবিধার ক্ষেত্রেও বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে।

গত ২০ সেপ্টেম্বর ধর্ম মন্ত্রণালয় নতুন নীতিমালার প্রজ্ঞাপন জারি করে। ২৪ সেপ্টেম্বর এটি গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়। এর মাধ্যমে ‘জেলা ও উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র পরিচালনা নীতিমালা, ২০২১’ বাতিল করা হয়েছে।

প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মাদ ফেরদৌস-উজ-জামান বলেন, নতুন নীতিমালায় মডেল মসজিদের কার্যক্রম, ইমাম-মুয়াজ্জিনের সম্মানি, অভিযোগের প্রতিকার, প্রয়োজনে বদলি, আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও জনবল নিয়োগের বিষয়গুলো আরও সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে।

প্রথমবার খতিবের পদ

নতুন নীতিমালায় প্রতিটি মডেল মসজিদের জন্য একজন করে খতিবের পদ রাখা হয়েছে। এ পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া যাবে এবং সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৬৫ বছর।

তবে খতিবের বেতন-ভাতার ব্যয় সরকার বহন করবে না। যেসব মডেল মসজিদের নিজস্ব আর্থিক সক্ষমতা রয়েছে, সেসব মসজিদ কমিটি নিজস্ব অর্থায়নে খতিব নিয়োগ দিতে পারবে।

খতিব পদে নিয়োগের জন্য আলিয়া মাদরাসা থেকে অন্তত দ্বিতীয় শ্রেণির কামিল অথবা স্বীকৃত কওমি মাদরাসা থেকে অন্তত দ্বিতীয় শ্রেণির দাওরায়ে হাদিস (তাকমীল) ডিগ্রি থাকতে হবে। ইসলামি বিষয় বা আরবিতে দ্বিতীয় শ্রেণির মাস্টার্স ডিগ্রিও গ্রহণযোগ্য হবে।

এ ছাড়া কোনো মসজিদে সিনিয়র পেশ ইমাম বা পেশ ইমাম হিসেবে অন্তত পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। মাদরাসায় মুহাদ্দিস, ফকীহ, আদীব বা সমমানের পদ কিংবা কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামি বিষয় বা আরবিতে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতাও গ্রহণযোগ্য হবে।

ইমাম-মুয়াজ্জিন-খাদিমের সম্মানি বাড়ল

নতুন নীতিমালায় পেশ ইমামের মাসিক সম্মানি ১৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে। আর্থিক সক্ষমতা থাকা মডেল মসজিদ কমিটি জাতীয় বেতনস্কেল ২০১৫ অনুযায়ী গ্রেড-১০-এ পেশ ইমামকে বেতন-ভাতা দিতে পারবে।

মুয়াজ্জিনের মাসিক সম্মানি ১০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১৫ হাজার টাকা এবং খাদিমের সম্মানি ৭ হাজার ৫০০ থেকে বাড়িয়ে ১২ হাজার টাকা করা হয়েছে। আর্থিক সক্ষমতা থাকলে মসজিদ কমিটি যথাক্রমে গ্রেড-১৬ ও গ্রেড-১৮ অনুযায়ী তাদের বেতন-ভাতা দিতে পারবে।

নিরাপত্তা প্রহরীর ক্ষেত্রেও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের সুযোগ রাখা হয়েছে।

নিয়োগে পরীক্ষা বাধ্যতামূলক

নতুন নীতিমালায় সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা এবং বাছাই কমিটির সুপারিশ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

ইমাম নিয়োগের ক্ষেত্রে সহিহ কোরআন তিলাওয়াত, জুমার আলোচনা, খুতবা পাঠ ও সালাতে ইমামতিসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ব্যবহারিক পরীক্ষার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

প্রতিটি মসজিদের নিয়োগ বা পদোন্নতির জন্য পাঁচ সদস্যের একটি বাছাই কমিটি থাকবে। কমিটির সুপারিশ ছাড়া কোনো পদে নিয়োগ দেওয়া যাবে না।

পদের বয়সসীমাতেও পরিবর্তন

সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে পেশ ইমামের সর্বোচ্চ বয়স ৩৫ বছর এবং মুয়াজ্জিন, খাদিম ও নিরাপত্তা প্রহরীর সর্বোচ্চ বয়স ৩২ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে।

পেশ ইমাম পদে অন্তত দুই বছরের ইমামতির অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। অন্যদিকে মুয়াজ্জিন ও খাদিম পদে আগের মতো অভিজ্ঞতার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি।

কমিটির নির্বাহী ক্ষমতা বাড়ল

নতুন নীতিমালায় মডেল মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটিকে মসজিদ পরিচালনার ক্ষেত্রে সব নির্বাহী ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। কাজের সুবিধায় কমিটি এক বা একাধিক উপকমিটি গঠন করতে পারবে।

সিটি করপোরেশন মডেল মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হবেন বিভাগীয় কমিশনার। জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা পর্যায়ে ইউএনও সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

কমিটির দায়িত্বের মধ্যে সরকারি বিশেষ দিবসে ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজন, রমজানে তারাবির জন্য হাফেজ নিয়োগ ও আবাসনের ব্যবস্থা, মাদক, সন্ত্রাস, গুজব, নারী নির্যাতন ও পরিবেশ দূষণবিরোধী জনসচেতনতা তৈরির বিষয়ও রাখা হয়েছে।

কর্মীদের বেতন থেকে হবে সঞ্চয়

মডেল মসজিদে কর্মরত ব্যক্তিদের ভবিষ্যৎ সুবিধার জন্য নতুন নীতিমালায় সঞ্চয়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। কর্মীদের বেতন থেকে ৫ শতাংশ অর্থ কেটে একই পরিমাণ অর্থ মসজিদ তহবিল থেকে যোগ করে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক হিসাবে জমা রাখতে হবে।

চাকরি বা দায়িত্ব শেষ হলে জমা হওয়া অর্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে। পাশাপাশি চাকরি শেষে এককালীন সম্মাননাও দেওয়া যেতে পারে। যে মসজিদে যত বছর দায়িত্ব পালন করেছেন, তত মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ সম্মাননা হিসেবে দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

কর্মীরা প্রতি মাসে সর্বোচ্চ চারদিন সাপ্তাহিক ছুটি এবং বছরে ২০ দিন নৈমিত্তিক ছুটি পাবেন। এ ছাড়া অর্জিত ছুটির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে নতুন নীতিমালায়।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ