মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের বর্তমান মেয়াদ, রাজনৈতিক উত্তরাধিকার এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চ্যাটবট গ্রকের কাছে দীর্ঘ সময় ধরে নানা প্রশ্ন করেছিলেন। এমনকি তাঁর মেয়াদ শেষে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও পরবর্তী নেতৃত্ব নিয়েও তিনি গ্রকের মতামত জানতে চেয়েছিলেন বলে জানিয়েছে টাইম ম্যাগাজিন। টাইম-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে […]
ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের বর্তমান মেয়াদ, রাজনৈতিক উত্তরাধিকার এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চ্যাটবট গ্রকের কাছে দীর্ঘ সময় ধরে নানা প্রশ্ন করেছিলেন। এমনকি তাঁর মেয়াদ শেষে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও পরবর্তী নেতৃত্ব নিয়েও তিনি গ্রকের মতামত জানতে চেয়েছিলেন বলে জানিয়েছে টাইম ম্যাগাজিন।
টাইম-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের সঙ্গে এক গোপন বৈঠকে ট্রাম্প দীর্ঘ সময় ধরে মাস্কের মালিকানাধীন এআই চ্যাটবট গ্রকের সঙ্গে কথা বলেন।
ওই সময় ট্রাম্প নিজের প্রেসিডেন্ট পদ ও রাজনৈতিক উত্তরাধিকার নিয়ে প্রশ্ন করার পাশাপাশি ভেনেজুয়েলার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্র আটক করলে দেশটির জনগণ কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে, তা-ও জানতে চান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বৈঠকে উপস্থিত এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে টাইম জানায়, সে সময় ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার নৌযানগুলোর বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার নির্দেশ দিচ্ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র ওই নৌযানগুলোকে মাদক পাচারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে অভিযোগ করেছিল।
মাদুরোকে আটক করা হলে ভেনেজুয়েলার জনগণের প্রতিক্রিয়া কী হতে পারে—ট্রাম্পের এমন প্রশ্নের জবাবে গ্রক মাদুরোকে দমনমূলক ও ব্যাপকভাবে অজনপ্রিয় নেতা হিসেবে বর্ণনা করে এবং তাঁর পতনে অনেক ভেনেজুয়েলান আনন্দ প্রকাশ করতে পারেন বলে উত্তর দেয় বলে ওই কর্মকর্তা জানান।
টাইম-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরবর্তী সময়ে ভেনেজুয়েলায় মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত ও আটক করার ঘটনায় বিভিন্ন স্থানে উদযাপনের দৃশ্য দেখা যায়। এর পর ট্রাম্প গ্রকের সক্ষমতা সম্পর্কে আরও ইতিবাচক ধারণা পোষণ করতে শুরু করেন বলে কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই বৈঠকের অভিজ্ঞতার পর ট্রাম্প গ্রককে অত্যন্ত বুদ্ধিমান বলে মনে করতে শুরু করেন। একই সময়ে দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর এআই প্রযুক্তির সক্ষমতা নিয়েও তাঁর আগ্রহ বাড়তে থাকে।
টাইম আরও জানিয়েছে, এ সময় ট্রাম্প প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছিলেন। সরকারি ও কৌশলগত কাজে এআই ব্যবহারের বিষয়টিও তাঁর প্রশাসনে গুরুত্ব পেতে শুরু করে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ২২তম সংশোধনী অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি দুইবারের বেশি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে পারেন না। ফলে বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ট্রাম্পের তৃতীয়বার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এ কারণে তাঁর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার এবং পরবর্তী নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্নটি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
টাইম-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে ট্রাম্প তাঁর প্রেসিডেন্ট পদ থেকে সরে যাওয়ার পর কী বিষয় সবচেয়ে বেশি মিস করবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসের কথা বলেছেন।