সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

উত্তর আমেরিকা
২:১৩ পিএম, ১ অক্টোবর ২০২৬

টেনেসিতে দুই দফা প্রাণঘাতী ইঞ্জেকশনেও মৃত্যু হয়নি, হাসপাতালে নেওয়া হলো সেই নারীকে

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় দুই ডোজ প্রাণঘাতী ইঞ্জেকশন দেওয়ার পরও বেঁচে ছিলেন ক্রিস্টা গেইল পাইক। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাতে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর অ্যাম্বুলেন্সে করে একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। তার বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ৫০ বছর বয়সী পাইককে ১৯৯৫ সালে ১৮ বছর বয়সে এক […]

টেনেসিতে দুই দফা প্রাণঘাতী ইঞ্জেকশনেও মৃত্যু হয়নি, হাসপাতালে নেওয়া হলো সেই নারীকে

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় দুই ডোজ প্রাণঘাতী ইঞ্জেকশন দেওয়ার পরও বেঁচে ছিলেন ক্রিস্টা গেইল পাইক। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাতে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর অ্যাম্বুলেন্সে করে একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। তার বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

৫০ বছর বয়সী পাইককে ১৯৯৫ সালে ১৮ বছর বয়সে এক সহপাঠীকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। বুধবার তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে টেনেসিতে ২০০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে প্রথম কোনো নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা ঘটত। তিনি বর্তমানে অঙ্গরাজ্যের ডেথ রো-তে থাকা একমাত্র নারী ছিলেন।

স্থানীয় সময় বুধবার রাতে কারা কর্তৃপক্ষ পাইকের শরীরে প্রাণঘাতী ওষুধ পেন্টোবারবিটালের দুই ডোজ প্রয়োগ করে। তবে তার আইনজীবীদের আদালতে দেওয়া জরুরি আবেদনে বলা হয়, দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার পরও তিনি বেঁচে ছিলেন, তার হৃদস্পন্দন চলছিল এবং তাকে নাক ডাকতে শোনা যাচ্ছিল। গণমাধ্যমের প্রত্যক্ষদর্শীরাও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় তার শ্বাস নেওয়া ও শরীর নড়াচড়ার কথা জানিয়েছেন।

পরে কারাগারে জরুরি চিকিৎসা সহায়তার ব্যবস্থা করা হয় এবং পাইককে কারাগারের বাইরে একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। টেনেসি ডিপার্টমেন্ট অব কারেকশন জানিয়েছে, কর্তৃপক্ষ অঙ্গরাজ্যের অনুমোদিত মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রটোকলের প্রতিটি ধাপ অনুসরণ করেছে এবং পাইককে একটি অফ-সাইট চিকিৎসা কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে বিষয়টি নিয়ে একাধিক দফা আইনি লড়াই হয়েছিল। বুধবার সকালে ষষ্ঠ সার্কিট আপিল আদালত শেষ মুহূর্তে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ওপর স্থগিতাদেশ দিলেও পরে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট সেই স্থগিতাদেশ তুলে নেয়। এরপরই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হয়।

পাইকের আইনজীবীরা আগে প্রাণঘাতী ইঞ্জেকশন পদ্ধতি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন। তাদের দাবি ছিল, এই পদ্ধতিতে ভুল হলে বন্দিকে দীর্ঘ সময় যন্ত্রণা ভোগ করতে হতে পারে। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগেও তারা তার শিরায় ওষুধ প্রবেশ করানোর পদ্ধতি নিয়ে আইনি আপত্তি তুলেছিলেন।

এদিকে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের এই ব্যর্থতার পর টেনেসির গভর্নর বিল লি ২০২৬ সালের বাকি সময়ের জন্য অঙ্গরাজ্যে সব নির্ধারিত মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করেছেন। একই সঙ্গে ঘটনাটি কীভাবে ঘটল, তা খতিয়ে দেখতে একটি স্বাধীন তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

পাইককে ১৯৯৫ সালে সহপাঠী কোলিন স্লেমারকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। ঘটনার সময় তার বয়স ছিল ১৮ বছর। প্রায় তিন দশক কারাগারে থাকার পর চলতি বছর তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছিল। তবে দুই দফা প্রাণঘাতী ইঞ্জেকশন দেওয়ার পরও তার মৃত্যু না হওয়ায় এখন মামলাটি নতুন করে আইনি ও প্রশাসনিক প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ