যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে বিষাক্ত ইনজেকশনের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দুই দফা চেষ্টা করা হলেও বেঁচে গেছেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নারী ক্রিস্টা পাইক। এ ঘটনার পর তার চিকিৎসা এবং ভবিষ্যৎ আইনি পরিণতি নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিলতা। ১৯৯৫ সালে ১৯ বছর বয়সী কলিন স্লেমায়ারকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় পাইককে। প্রায় ২০০ বছরের মধ্যে টেনেসিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের অপেক্ষায় থাকা প্রথম […]
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে বিষাক্ত ইনজেকশনের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দুই দফা চেষ্টা করা হলেও বেঁচে গেছেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নারী ক্রিস্টা পাইক। এ ঘটনার পর তার চিকিৎসা এবং ভবিষ্যৎ আইনি পরিণতি নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিলতা।
১৯৯৫ সালে ১৯ বছর বয়সী কলিন স্লেমায়ারকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় পাইককে। প্রায় ২০০ বছরের মধ্যে টেনেসিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের অপেক্ষায় থাকা প্রথম নারী ছিলেন তিনি।
আইনজীবীদের বরাতে জানা গেছে, পাইকের শরীরে পেন্টোবার্বিটালের দুটি প্রাণঘাতী ডোজ প্রয়োগ করা হয়েছিল। এরপরও তিনি মারা যাননি। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন এবং তাকে নিবিড় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ঘটনার পর টেনেসির গভর্নর বিল লি চলতি বছরের বাকি সময়ের জন্য সব ধরনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করেছেন। একই সঙ্গে কীভাবে এমন পরিস্থিতি তৈরি হলো, তা খতিয়ে দেখতে নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। টেনেসির অ্যাটর্নি জেনারেল জোনাথন স্ক্রমেটির কার্যালয়ও জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ বের করা জরুরি।
প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার সন্ধ্যায় নির্ধারিত সময়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরু হয়। স্থানীয় সময় রাত ৭টা ২৬ মিনিটে পাইক তার শেষ বক্তব্য দেন। এরপর তাকে প্রাণঘাতী ওষুধের দুটি ডোজ দেওয়া হলেও তিনি শ্বাস নিচ্ছিলেন এবং জীবিত ছিলেন।
ডব্লিউপিএলএনের সাংবাদিক ক্যাথরিন সুইনি বলেন, তিনি গত বছর এবং চলতি বছরের অধিকাংশ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা সরাসরি কাভার করেছেন। তবে এমন পরিস্থিতি আগে কখনো দেখেননি তিনি। তার ভাষায়, পুরো ঘটনাটির পরিণতি ছিল অত্যন্ত করুণ।
পাইকের আইনজীবী রান্ডি স্পাইভি ও কেলি গ্লিসন জানান, তার রগের সমস্যার কারণে ইনজেকশন প্রয়োগে জটিলতা তৈরি হতে পারে—এ বিষয়ে আদালতকে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল।
আরেক আইনজীবী স্টিফেন ফেরেল বলেন, তাদের সবচেয়ে বড় আশঙ্কা ছিল দীর্ঘ সময় ধরে যন্ত্রণাদায়কভাবে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাওয়া। শেষ পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না হলেও সেই আশঙ্কাই বাস্তবে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আইনজীবী স্পাইভি এখন পাইকের মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি কমিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তার বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্রের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ইতিহাসে পাইক যে অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছেন, তা অত্যন্ত ভয়াবহ।
অ্যামহার্স্ট কলেজের অধ্যাপক অস্টিন সারাটের মতে, প্রাণঘাতী ওষুধ শরীরে প্রবেশের পরও কোনো মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি বেঁচে যাওয়ার ঘটনা অত্যন্ত বিরল। তার মতে, এ ঘটনা এখন আইনি ব্যবস্থার সামনে বড় ধরনের জটিলতা তৈরি করেছে।
এর আগে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় ব্যর্থতার নজির রয়েছে। ১৯৪৬ সালে ১৬ বছর বয়সী উইলি ফ্রান্সিস বৈদ্যুতিক চেয়ারের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বেঁচে যান। পরে তাকে দ্বিতীয়বার বৈদ্যুতিক চেয়ারে বসিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
২০০৯ সালে রোমেল ব্রুমের ক্ষেত্রেও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল। তার রগ খুঁজে না পাওয়ায় প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়া সম্ভব হয়নি। পরবর্তী সময়ে আদালত উভয় ক্ষেত্রেই দ্বিতীয়বার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করাকে সংবিধানবিরোধী নয় বলে রায় দিয়েছিল।
তবে ক্রিস্টা পাইকের ঘটনা আগের ঘটনাগুলোর চেয়ে আলাদা। কারণ তার শরীরে প্রাণঘাতী ওষুধের দুটি ডোজ প্রবেশের পরও তিনি জীবিত রয়েছেন। ফলে তাকে আবার মৃত্যুদণ্ড দেওয়া যাবে কি না, কিংবা তার শাস্তি পরিবর্তন করা হবে কি না—এসব প্রশ্ন এখন নতুন করে সামনে এসেছে।
সূত্র: সিএনএন