সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

উত্তর আমেরিকা
৬:১৯ পিএম, ১০ আগস্ট ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের টিকাদান নীতিতে বড় পরিবর্তন, নির্বাহী আদেশে ট্রাম্পের স্বাক্ষর

শিশুদের টিকাদান ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নতুন উদ্যোগের আওতায় শিশুদের জন্য কেন্দ্রীয় রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ সংস্থার (সিডিসি) সুপারিশ করা টিকার সংখ্যা ১৭টি থেকে কমিয়ে ১১টিতে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে হাম, মাম্পস ও রুবেলার সম্মিলিত এমএমআর টিকা একসঙ্গে না দিয়ে আলাদা সময়ে দেওয়ার পক্ষে […]

যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের টিকাদান নীতিতে বড় পরিবর্তন, নির্বাহী আদেশে ট্রাম্পের স্বাক্ষর

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

শিশুদের টিকাদান ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নতুন উদ্যোগের আওতায় শিশুদের জন্য কেন্দ্রীয় রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ সংস্থার (সিডিসি) সুপারিশ করা টিকার সংখ্যা ১৭টি থেকে কমিয়ে ১১টিতে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে হাম, মাম্পস ও রুবেলার সম্মিলিত এমএমআর টিকা একসঙ্গে না দিয়ে আলাদা সময়ে দেওয়ার পক্ষে অবস্থান জানিয়েছেন ট্রাম্প।

সোমবার ওভাল অফিসে স্বাস্থ্যমন্ত্রী রবার্ট এফ. কেনেডির উপস্থিতিতে নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন ট্রাম্প। এ সময় তিনি শিশুদের জন্য টিকাদান নীতিতে পরিবর্তনের পক্ষে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।

এমএমআর টিকা আলাদা দেওয়ার পক্ষে ট্রাম্প

ট্রাম্প বলেন, তার প্রশাসন শিশুদের গুরুতর ও বিপজ্জনক রোগ থেকে সুরক্ষায় ১১টি মূল টিকার সুপারিশকে স্বীকৃতি দিচ্ছে। তবে হাম, মাম্পস ও রুবেলার সম্মিলিত টিকাটি তিনটি পৃথক টিকা হিসেবে আলাদা সময়ে দেওয়ার পক্ষে তিনি মত দেন।

তার দাবি, তিনটি টিকা একসঙ্গে দেওয়ার পরিবর্তে আলাদাভাবে দিলে ঝুঁকি কম থাকবে এবং টিকাগুলো কার্যকর থাকবে। একসঙ্গে একাধিক টিকা দেওয়ার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

তবে ট্রাম্প একই সঙ্গে বলেন, অভিভাবকেরা চাইলে তাদের সন্তানকে সব ধরনের টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। অর্থাৎ টিকা গ্রহণের বিষয়ে অভিভাবকদের সিদ্ধান্তের অধিকার থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অটিজম নিয়ে ট্রাম্পের দাবি

টিকা ও অটিজমের সম্ভাব্য সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেন ট্রাম্প। তার দাবি, কিছু নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর মধ্যে অটিজমের হার তুলনামূলকভাবে কম এবং এসব জনগোষ্ঠীর মধ্যে টিকা ব্যবহারের প্রবণতাও কম।

তবে টিকার সঙ্গে অটিজমের সরাসরি কারণগত সম্পর্ক রয়েছে—এমন দাবির পক্ষে প্রতিষ্ঠিত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। দীর্ঘদিনের বৈজ্ঞানিক গবেষণায় টিকা নেওয়াকে অটিজমের কারণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হয়নি।

কেনেডির বক্তব্যেও পরিবেশগত কারণের প্রসঙ্গ

ট্রাম্পের সঙ্গে উপস্থিত স্বাস্থ্যমন্ত্রী রবার্ট এফ. কেনেডি অটিজমের সঙ্গে টিকার সরাসরি সম্পর্কের বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো মূল্যায়ন দেননি। তবে তিনি বলেন, ১৯৮৯ সালের পর জন্ম নেওয়া শিশুদের মধ্যে অটিজমের হার বৃদ্ধির বিষয়টি বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

কেনেডির দাবি, ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে এমন কোনো পরিবেশগত পরিবর্তন ঘটতে পারে, যা শিশুদের ওপর প্রভাব ফেলেছে। এর পেছনে কোনো পরিবেশগত বিষাক্ত উপাদান ভূমিকা রাখছে কি না, তা খুঁজে বের করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ

এদিকে শিশুদের টিকার সংখ্যা কমানো এবং এমএমআর টিকা আলাদা করে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়ে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকার সময়সূচি ও সংমিশ্রণে পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ ও জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

সম্মিলিত এমএমআর টিকা নিরাপদ নয়—এমন দাবির পক্ষেও প্রতিষ্ঠিত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নীতির বাস্তবায়ন কীভাবে হবে এবং এর ফলে শিশুদের টিকাদান কাভারেজ ও জনস্বাস্থ্যে কী ধরনের প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

নতুন নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের শিশুদের টিকাদান নীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের পথ তৈরি হলেও এর বাস্তব প্রয়োগ, সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য নির্দেশনা এবং অভিভাবকদের জন্য নতুন সুপারিশ কীভাবে নির্ধারিত হবে—তা এখন নজরদারিতে রয়েছে।

সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ