সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

উত্তর আমেরিকা
৬:১৫ পিএম, ৮ আগস্ট ২০২৬

যে কারণে ছয় লাখ ‘বিশেষ’ মশা ছাড়ছে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন এলাকায় মশার বংশবিস্তার নিয়ন্ত্রণে এবার প্রায় ছয় লাখ ‘বিশেষ’ মশা ছাড়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এগুলো সাধারণ মশা নয়। সবগুলোই পুরুষ এশিয়ান টাইগার মশা, যাদের শরীরে রয়েছে ওলবাকিয়া নামের একটি প্রাকৃতিক ব্যাকটেরিয়া। এই মশাগুলো মানুষকে কামড়ায় না। বরং বংশবিস্তার ঠেকাতেই পরিকল্পিতভাবে এসব পুরুষ মশা ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। বিজ্ঞানভিত্তিক এই পদ্ধতির লক্ষ্য হলো স্ত্রী […]

যে কারণে ছয় লাখ ‘বিশেষ’ মশা ছাড়ছে যুক্তরাষ্ট্র

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন এলাকায় মশার বংশবিস্তার নিয়ন্ত্রণে এবার প্রায় ছয় লাখ ‘বিশেষ’ মশা ছাড়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এগুলো সাধারণ মশা নয়। সবগুলোই পুরুষ এশিয়ান টাইগার মশা, যাদের শরীরে রয়েছে ওলবাকিয়া নামের একটি প্রাকৃতিক ব্যাকটেরিয়া।

এই মশাগুলো মানুষকে কামড়ায় না। বরং বংশবিস্তার ঠেকাতেই পরিকল্পিতভাবে এসব পুরুষ মশা ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। বিজ্ঞানভিত্তিক এই পদ্ধতির লক্ষ্য হলো স্ত্রী মশার ডিম ফুটতে না দেওয়া এবং ধীরে ধীরে ওই এলাকায় মশার সংখ্যা কমিয়ে আনা।

ওয়াশিংটনের বাসিন্দা টড মন্টগোমারি সম্প্রতি নিজের বাড়ির আঙিনায় একটি ছোট টিউবের ঢাকনা খুলে শত শত পুরুষ মশা ছেড়ে দেন। এটি কোনো দুষ্টুমি নয়; বরং আবাসিক এলাকায় মশা নিয়ন্ত্রণে রাসায়নিক কীটনাশকের বিকল্প হিসেবে নেওয়া একটি বৈজ্ঞানিক উদ্যোগ।

মশা নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান ‘বি সেফ মসকুইটো কন্ট্রোল’-এর ৩২ বছর বয়সী প্রতিষ্ঠাতা মন্টগোমারির পরিকল্পনা অনুযায়ী, গ্রীষ্মের শেষ নাগাদ পুরো এলাকায় প্রায় ছয় লাখ এশিয়ান টাইগার মশা ছাড়া হবে।

মন্টগোমারি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উষ্ণ ও আর্দ্র দিনের সংখ্যা বাড়ছে। এতে রোগবাহী মশার বংশবিস্তার এবং সক্রিয় থাকার সময়ও দীর্ঘ হচ্ছে। তাই মশা নিয়ন্ত্রণে প্রচলিত রাসায়নিক পদ্ধতির পাশাপাশি নতুন ও তুলনামূলক পরিবেশবান্ধব পদ্ধতির প্রয়োজন হচ্ছে।

কীভাবে কাজ করে এই পদ্ধতি?

এখানে মূল ভূমিকা পালন করছে ওলবাকিয়া ব্যাকটেরিয়া। এটি মশার শরীরে প্রাকৃতিকভাবেই থাকতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, ওলবাকিয়া বহনকারী পুরুষ মশা যখন এমন স্ত্রী মশার সঙ্গে মিলিত হয়, যার শরীরে সংশ্লিষ্ট ধরনের ওলবাকিয়া নেই বা ভিন্ন ধরনের ওলবাকিয়া রয়েছে, তখন তাদের উৎপন্ন ডিম সাধারণত ফুটতে পারে না।

ফলে নতুন মশার সংখ্যা কমতে থাকে।

‘জ্যাপ মেলস’ নামে বাজারজাত এই পদ্ধতিটি বিশেষভাবে এশিয়ান টাইগার মশার ওপর প্রয়োগ করা হচ্ছে। এই প্রজাতি যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় নয়। তবে এটি ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগের জীবাণু বহন করতে পারে।

সম্প্রতি উত্তর ভার্জিনিয়ায় স্থানীয়ভাবে ডেঙ্গু সংক্রমণের প্রথম ঘটনা শনাক্ত হওয়ায় রোগবাহী মশার বিস্তার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

রাসায়নিক কীটনাশকের বিকল্প

কেন্টাকির বাসিন্দা ও সাবেক বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী মন্টগোমারি প্রতিরক্ষা খাতে চাকরির জন্য ওয়াশিংটন এলাকায় আসেন। পরে ২০২৩ সালে তিনি মশা নিয়ন্ত্রণের প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলেন।

বর্তমানে তিনি কীটতত্ত্বে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়াশোনা করছেন। দেশীয় উদ্ভিদ ও পরাগায়নকারী প্রাণীর প্রতি আগ্রহ থেকেই তার এই উদ্যোগের শুরু।

মন্টগোমারির লক্ষ্য হলো আবাসিক এলাকায় ব্যাপকভাবে রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহারের প্রয়োজন কমিয়ে একটি বিকল্প পদ্ধতি তৈরি করা।

সিঙ্গাপুরেও বড় পরিসরে ব্যবহার

এ ধরনের কর্মসূচির সবচেয়ে বড় সরকারি উদ্যোগগুলোর একটি চলছে সিঙ্গাপুরে। ‘প্রজেক্ট ওলবাকিয়া’ নামে ২০১৬ সালে শুরু হওয়া ওই কর্মসূচির আওতায় বর্তমানে প্রতি সপ্তাহে এক কোটিরও বেশি পুরুষ মশা ছাড়ার কথা জানা গেছে।

এর আগে প্রকাশিত গবেষণায় ওলবাকিয়া-ভিত্তিক মশা নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির কার্যকারিতার প্রমাণও পাওয়া গেছে। নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিনে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা যায়, এডিস ইজিপ্টাই মশার সংখ্যা কমানোর পাশাপাশি ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হয়েছে।

তবে ওয়াশিংটনের এই উদ্যোগের ক্ষেত্রে লক্ষ্য মূলত এশিয়ান টাইগার মশার বংশবিস্তার কমানো। প্রায় ছয় লাখ পুরুষ মশা ছেড়ে দেওয়ার পরিকল্পনাটি তাই প্রচলিত মশা নিধন কার্যক্রমের চেয়ে ভিন্ন—এখানে মশাকে সরাসরি বিষ প্রয়োগ করে মারা নয়, বরং তাদের প্রজনন চক্রে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উষ্ণ ও আর্দ্র পরিবেশ দীর্ঘস্থায়ী হলে রোগবাহী মশার বিস্তার আরও বাড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন। সেই বাস্তবতায় ওলবাকিয়া-ভিত্তিক প্রযুক্তি ভবিষ্যতে মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে আরও ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হতে পারে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ