সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

আন্তর্জাতিক
১:৩০ পিএম, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়ানোর ঘোষণা মোদির

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক চাপের মধ্যেই ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য আরও বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। একই সঙ্গে দুই দেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। সোমবার (৩১ আগস্ট) কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেন মোদি। বৈঠকেই তিনি […]

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়ানোর ঘোষণা মোদির

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক চাপের মধ্যেই ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য আরও বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। একই সঙ্গে দুই দেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

সোমবার (৩১ আগস্ট) কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেন মোদি। বৈঠকেই তিনি দুই দেশের বাণিজ্য বাড়ানো ও এর পরিধি আরও বিস্তৃত করার বিষয়ে ভারতের আগ্রহের কথা জানান।

পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মোদি বলেন, ইরানের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব আরও জোরদার করার অঙ্গীকার তিনি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। একই সঙ্গে আগামী দিনে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের ইচ্ছার কথাও জানান তিনি।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে গত কয়েক বছরে ভারত-ইরান বাণিজ্যে বড় ধরনের পতন হয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দুই দেশের মোট বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৭০৩ কোটি ডলার। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১৬৩ কোটি ডলারে।

এর মধ্যেই মার্কিন প্রশাসন নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামে একটি উদ্যোগও চালু করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞা নিয়ে সতর্ক ভারত

ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিসরি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি ভারত সরকার পর্যালোচনা করছে। তিনি বলেন, বর্তমানে ভারত ও ইরানের মধ্যে যে বাণিজ্য চলছে, তার বড় অংশই বেসরকারি খাতের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। ফলে নিষেধাজ্ঞার সম্ভাব্য প্রভাব কতটা হবে, তা সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর সিদ্ধান্তের ওপরও নির্ভর করবে।

ইরানের চাবাহার বন্দর নিয়েও বৈঠক ও আলোচনার গুরুত্ব রয়েছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রবন্দরটি নিয়ে ভারতের দীর্ঘমেয়াদি আগ্রহ রয়েছে। পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিসরি জানান, চাবাহারের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং দুই পক্ষ মিলে টেকসই সমাধানের পথ খুঁজছে।

সংঘাত বন্ধে কূটনীতির ওপর জোর

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা এবং বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, আলোচনা ও কূটনীতির মাধ্যমেই সমস্যাগুলোর সমাধান সম্ভব।

আঞ্চলিক সংঘাতের মধ্যে বাণিজ্যিক জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, চলমান সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে অন্তত ১৩ জন ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছেন।

এ কারণে আন্তর্জাতিক নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল এবং নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি বলেও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

মোদিকে ভারতে আমন্ত্রণ পেজেশকিয়ানের

বৈঠকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধনীতির সমালোচনা করেন। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে কূটনীতিক উদ্যোগকেই কার্যকর পথ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

এ সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আসন্ন ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিতে পেজেশকিয়ানকে ভারতে আসার আমন্ত্রণ জানান।

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা, ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা এবং চাবাহার বন্দরের মতো কৌশলগত স্বার্থ—সবকিছু মিলিয়ে মোদি ও পেজেশকিয়ানের বৈঠক দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

সূত্র: দ্য ওয়্যার

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ