সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

Main Strem
১:২৪ পিএম, ১৫ জুলাই ২০২৬

চিকিৎসাসেবার আগে জানতে হবে রোগীর নাগরিকত্ব? মার্কিন কংগ্রেসে নতুন বিল ঘিরে বিতর্ক

যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের অভিবাসন বা নাগরিকত্বের তথ্য সংগ্রহ বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব উঠেছে মার্কিন কংগ্রেসে। রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান চিপ রয় উত্থাপিত নতুন একটি বিলকে ঘিরে ইতোমধ্যেই স্বাস্থ্যখাত, অভিবাসন নীতি এবং নাগরিক অধিকার নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রস্তাবিত আইনের নাম “Illegal Alien Patient Reporting Act”। বিলটি পাস হলে মেডিকেয়ার, মেডিকেইড বা […]

চিকিৎসাসেবার আগে জানতে হবে রোগীর নাগরিকত্ব? মার্কিন কংগ্রেসে নতুন বিল ঘিরে বিতর্ক

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৪ মিনিটে পড়ুন |

যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের অভিবাসন বা নাগরিকত্বের তথ্য সংগ্রহ বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব উঠেছে মার্কিন কংগ্রেসে। রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান চিপ রয় উত্থাপিত নতুন একটি বিলকে ঘিরে ইতোমধ্যেই স্বাস্থ্যখাত, অভিবাসন নীতি এবং নাগরিক অধিকার নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

প্রস্তাবিত আইনের নাম “Illegal Alien Patient Reporting Act”। বিলটি পাস হলে মেডিকেয়ার, মেডিকেইড বা অন্যান্য ফেডারেল স্বাস্থ্য কর্মসূচির অর্থ গ্রহণকারী হাসপাতালগুলোকে রোগী ভর্তি করার সময় তাদের অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে হবে এবং নির্দিষ্ট সময় পরপর সেই তথ্য ফেডারেল সরকারের কাছে জমা দিতে হবে।

কী জানতে চাইবে হাসপাতাল?

বিল অনুযায়ী, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের কাছ থেকে জানতে চাওয়া হবে তারা—

  • মার্কিন নাগরিক কি না,
  • বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা (গ্রিন কার্ডধারী) কি না,
  • বৈধ ভিসাধারী কি না,
  • অথবা অন্য কোনো আইনি ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন কি না।

এই তথ্যের ভিত্তিতে সরকার স্বাস্থ্যখাতে অভিবাসীদের চিকিৎসা ব্যয়ের একটি জাতীয় হিসাব তৈরি করতে পারবে বলে দাবি করেছেন বিলটির প্রস্তাবক।

কেন এই বিল?

টেক্সাসের রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য চিপ রয়ের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদের অর্থ থেকে অবৈধ অভিবাসীদের চিকিৎসায় কত টাকা ব্যয় হচ্ছে, তার নির্ভুল কোনো জাতীয় তথ্য বর্তমানে নেই।

তার মতে, প্রকৃত ব্যয় সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা না থাকায় অভিবাসন নীতি ও স্বাস্থ্যখাতের অর্থনৈতিক প্রভাব মূল্যায়ন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এই বিল সেই তথ্যগত ঘাটতি পূরণ করবে এবং নীতিনির্ধারণে সহায়ক হবে।

হাসপাতালের জন্য কী বাধ্যবাধকতা থাকবে?

বিলটি কার্যকর হলে হাসপাতালগুলোকে নিয়মিতভাবে রোগীদের অভিবাসন-সংক্রান্ত তথ্য সরকারের কাছে রিপোর্ট করতে হবে। নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ না করলে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল ফেডারেল স্বাস্থ্য কর্মসূচির অর্থায়ন হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

তবে বিলে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্তও রাখা হয়েছে। ভর্তি ফরমে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে যে, রোগী চাইলে এই প্রশ্নের উত্তর না দিলেও তার চিকিৎসাসেবা কোনোভাবেই বন্ধ বা সীমিত করা যাবে না।

অর্থাৎ তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা থাকবে, কিন্তু চিকিৎসা পাওয়া উত্তর দেওয়ার ওপর নির্ভর করবে না।

বর্তমান আইন কী বলছে?

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ফেডারেল আইন হাসপাতালগুলোকে রোগীর নাগরিকত্ব বা অভিবাসন মর্যাদা সরকারের কাছে জানাতে বাধ্য করে না।

বরং ১৯৮৬ সালের Emergency Medical Treatment and Labor Act (EMTALA) অনুযায়ী, সরকারি অর্থ গ্রহণকারী হাসপাতালগুলো জরুরি বিভাগে আসা প্রত্যেক রোগীকে পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় জরুরি চিকিৎসা দিতে বাধ্য।

এই আইনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, রোগীর—

  • নাগরিকত্ব,
  • অভিবাসন মর্যাদা,
  • স্বাস্থ্যবীমা,
  • কিংবা অর্থ পরিশোধের সক্ষমতা

—কোনোটিই জরুরি চিকিৎসা পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা হতে পারে না।

কোন অঙ্গরাজ্য আগে থেকেই তথ্য সংগ্রহ করছে?

টেক্সাস এবং ফ্লোরিডার মতো কয়েকটি অঙ্গরাজ্য ইতোমধ্যেই নিজেদের উদ্যোগে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণকারী অভিবাসীদের তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা চালু করেছে।

বিশেষ করে ২০২৪ সালে টেক্সাসের গভর্নর একটি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে হাসপাতালগুলোকে রোগীদের অভিবাসন-সংক্রান্ত তথ্য জানতে বলেছিলেন।

তবে সে সময় নাগরিক অধিকার সংগঠন American Civil Liberties Union (ACLU) জানিয়েছিল, হাসপাতাল প্রশ্ন করতে পারলেও রোগীরা উত্তর দিতে বাধ্য নন।

সমর্থকদের যুক্তি

বিলটির সমর্থকদের মতে, স্বাস্থ্যখাতে অভিবাসন-সম্পর্কিত ব্যয়ের প্রকৃত চিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরা জরুরি।

অভিবাসন নীতি নিয়ে কাজ করা সংগঠন Federation for American Immigration Reform (FAIR)-এর পরিচালক জো চ্যাথাম দাবি করেন, ফ্লোরিডায় মাত্র এক বছরে অবৈধ অভিবাসীদের জরুরি চিকিৎসায় করদাতাদের প্রায় ৫৬৬ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে।

তার মতে, জাতীয় পর্যায়ে এই ব্যয় বছরে প্রায় ২১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।

বিরোধীদের উদ্বেগ

অন্যদিকে অভিবাসী অধিকার এবং স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক সংগঠনগুলো এই প্রস্তাবের কড়া সমালোচনা করেছে।

তাদের আশঙ্কা, হাসপাতাল রোগীর নাগরিকত্ব জানতে চাইলে অনেক অভিবাসী চিকিৎসা নিতে ভয় পেতে পারেন। বিশেষ করে জরুরি চিকিৎসার ক্ষেত্রেও অনেকে হাসপাতালে যেতে দেরি করবেন, যা জনস্বাস্থ্য এবং রোগীর নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

সমালোচকদের মতে, চিকিৎসা ব্যবস্থাকে অভিবাসন নীতির অংশে পরিণত করা হলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী।

এখন কী হবে?

চিপ রয়ের উত্থাপিত বিলটি এখনো প্রাথমিক আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

আইনে পরিণত হতে হলে বিলটিকে প্রথমে প্রতিনিধি পরিষদের সংশ্লিষ্ট কমিটির অনুমোদন পেতে হবে। এরপর প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষেই পাস হতে হবে। সবশেষে প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের পরই এটি কার্যকর আইন হবে।

মার্কিন কংগ্রেসে প্রতি বছর অসংখ্য বিল উত্থাপিত হলেও সেগুলোর একটি বড় অংশ শেষ পর্যন্ত আইন হিসেবে অনুমোদন পায় না। ফলে এই প্রস্তাবের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে কংগ্রেসের পরবর্তী আলোচনার ওপর।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ